Posts

শাহাদাতের মাকাম স্পর্শ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে

  জুলাইয়ের সন্তানেরা মরে না। তারা শুধু তাদের দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনকে ইনসাফের পথে, হকের পক্ষে, জুলুমের বিরুদ্ধে কুরবানি করে। ওরা জীবন বাঁচাতে রাজপথে যায়নি। ওরা জীবন হাতে নিয়েই জুলাইয়ের ময়দানে নেমেছিল। ওরা জানত, বাতিলের সামনে, জালিমের সামনে মাথা নত করে বেঁচে থাকা জীবন নয়, বরং ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়ে জীবন দিলে তার সামনে মহাজীবনের দরজা খুলে যায়। জুলাইয়ের যোদ্ধারা সেই মহাজীবনের স্বাদ পাইছে। ওরা রাজপথে শুধু প্রতিবাদের জন্য ছিলোনা, ছিলো শাহাদাতের মাকাম স্পর্শ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। ওরা গিয়েছিল মহাজীবনের স্বাদ পেতে। জুলাই যোদ্ধাদের জীবন কবরের অন্ধকারে শেষ হয় না, তাদের জীবন শহীদের রক্তে, মজলুমের দোয়ায়, মুক্ত স্বদেশের স্মৃতিতে, ইতিহাসের কিতাবে জিন্দা থাকে। জুলাইয়ের এই সন্তানেরা কোনো বিচ্ছিন্ন প্রজন্ম নয়। ওদের রক্ত বাঁধা আছে হাজার শহীদের রক্তের সিলসিলায়। পলাশীর বিশ্বাসঘাতকতা থেকে স্বাধীনতার রক্তধারা, শাপলা চত্বর থেকে জুলাইয়ের রাজপথ, এক দীর্ঘ শাহাদাতের কাফেলায় ওরা যুক্ত হয়েছে। ওরা মরলেও ওরা পরাজিত নয়। ওরা মরলেও ওরা নিঃশেষ নয়। ওরা মরলেও ওরা বীর। ওরা মরলেও ওরা বিপ্লবের সন্তান। ওরা মরলেও ওরা ইন...

আমার মেয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়

  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শহীদ মেহরুন নেছা তানহার বাবা মোশারফ হোসেন বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমার স্ত্রী ফোন করে বলে আমার মেয়ের শরীরে গুলি গেলেছে। তখন আমি দৌড়ে বাসায় যাই। গিয়ে দেখতে পাই আমার মেয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে, বাসার ফ্লোর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। তখনও আমার মেয়ে জীবিত ছিল। বৃহস্পতিবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দ্বিতীয়তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন তিনি।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ওদায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা দায়রা জজ নুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। জবানবন্দিতে শহীদ তানহার বাবা বলেন, আমার মেয়ে মিরপুর শাহ আলী কলেজে অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। তানহা আমার একমাত্র মেয়ে। আমার আরেকজন ছেলেও আছে। ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমার দুই ছেলে মেয়েই অংশ নিয়েছিল। আমি তাদেরকে প্রায়ই আন্দোলনে যেতে নিষেধ করতাম। ১৯ জুলাই আমার ছেলে-মেয়ের মামাতো ভাই আকরাম খান রাব্বী মিরপুর-১০ এলাক...

‘বাবা তুই আমারে কিছুই বলে গেলি না, ঘুমিয়ে রেখে চলে গেলি’

Image
  দীর্ঘ দেড় বছর পর প্রিয় সন্তানের কবরের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন উত্তরায় নিহত ফয়সাল সরকারের মা হাজেরা বেগম, যাত্রাবাড়ীতে নিহত সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম, মাহিমের মা জোসনা বেগম ও স্ত্রী। এ সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। যাত্রাবাড়ীর কাজলায় আন্দোলনে শহীদ সোহেল রানার মা ছেলের কবরের সামনে গিয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ছেলের নানা স্মৃতি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘বাবা, তুই আমাকে কিছুই বলে গেলি না। আমার পায়ে তেল মালিশ করে ঘুমিয়ে রেখে গেলি। বাবা, আর তোরে পাইলাম না।’মা রাশেদাসহ আট শহীদের স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের কবর পেয়ে কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ মাটি ছুঁয়েছেন, কেউ কবরে লাগানো গাছে হাত বুলাচ্ছেন। সবার চোখের পানিতে ভাসছিল নানা স্মৃতি। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক মাসের চেষ্টায় রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত শহীদদের মধ্যেে আটজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। সোমবার সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ ও অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে স্বজনদের কবর বুঝিয়ে দ...

নামহীন আট শহীদের কবরে ফিরল পরিচয়

Image
  রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, ৫ জানুয়ারি ২০২৬। দিগন্তবিস্তৃত মাটির বুকে এতদিন যে কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল শুধুই নম্বর অথবা নির্মম ‘অজ্ঞাতনামা’ শব্দটি। জুলাই ২০২৪-এর অগ্নিগর্ভে রদিনগুলোতে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হওয়ার পর বহু প্রাণ নিথর হয়ে আশ্রয় নিয়েছিল এই মাটির নিচে—রিচয়হীন, স্বজনহীন অবস্থায়। ডিএনএ প্রযুক্তির কল্যাণে এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নিরলস প্রচেষ্টায় রায়েরবাজারের সেই নামহীন কবরগুলো ফিরে পেতে শুরু করেছে, তাদের হারানো মর্যাদা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘মিনেসোটা প্রটোকল’ অনুসরণ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মানবিক ও ফরেনসিক উদ্যোগ। গতকাল সোমবার কবরস্থানে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে ১১৪ জন শহীদের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং কবর চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। উত্তোলিত লাশগুলোর ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে আবেদনকারী ৯টি পরিবারের মধ্যে আট শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা...

সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা

Image
চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল সীতাকুণ্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক অভূতপূর্ব গণজাগরণে রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ক্রমে সারা শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, উত্তাল হয়ে উঠে মহাসড়ক, রেলপথ ও পৌর সদর। ১৬ জুলাই কুমিরাস্থ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্র বৈষম্যের প্রতিবাদে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযোগ স্থাপনকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন ও রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে। কয়েক ঘণ্টা অবরোধ চলাকালে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক লাইফলাইন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।   এই শান্তিপূর্ণ অবরোধ দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সাড়া ফেলতে শুরু করে এবং প্রশাসনকে চাপে ফেলে দেয়। তবে প্রশাসনের পরিবর্তে হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায় শান্তিপূর্ণ মিছিলে, বিশেষ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের লক্ষ্য করে। ছাত্রদের সূত্র অনুযায়ী, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা করে। হামলার এক পর্যায়ে আন্দোলনর...

লাল প্রোফাইলে ছেয়ে যায় ফেসবুক

Image
  কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী সংঘাত-সহিংসতার প্রতিবাদে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই রাতে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ জুলাই দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে দুপুর সাড়ে ১২টায় একযোগে এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়। সেদিন টেলিগ্রাম অ্যাপে প্রচারিত বার্তায় জানানো হয়, ‘সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম-খুনের প্রতিবাদ এবং জাতিসংঘের তদন্তে নিরপেক্ষ বিচারের দাবিতে’ এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, পেশাজীবী, শ্রমজীবীসহ সব নাগরিককে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।এর অংশ হিসেবে সেদিন রাতেই সারা দেশে শিক্ষার্থী ও নাগরিকরা মুখ ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি তুলে সামাজিকমাধ্যমে প্রচার চালান। সরকারি শোক দিবসের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এই লাল কাপড় হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ভাষা। ফেসবুকে বহু শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষার্থী লাল রঙের ফ্রেমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি সাজান। সরকারপ...

সাভারে বিজয় মিছিলে গুলিতে শহীদ হন ৩০ ছাত্র-জনতা

Image
  গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ বিজয় মিছিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী ক্যাডারদের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে অন্তত ৩০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত আরো দুই শতাধিক মানুষ। ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি লংমার্চ ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ যোগ দেন। মিছিলটি সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ গুলি ছোড়ে বলে জানা যায়। এতে বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাইউম ও কলেজছাত্রী নাফিসা হোসাইন মারওয়া ছিলেন।পরে আন্দোলনকারীরা পাকিজা মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হয়ে সাভার থানার দিকে অগ্রসর হন। দুপুরের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুক্তির মোড় ও থানার মোড়ে ব্...