Posts

Showing posts from December, 2024

শহীদ রাকিবকে এলাকায় দাফনও করতে পারেননি স্বজনরা!

Image
  চারদিকে ভাঙচুর, আগুন। মনে ভয় জাগে কী হবে। মা ও ভাইসহ তিনজনের পরিবার। এমনিতে অভাব পিছু ছাড়ছে না তাদের। সংসার তো চালাতে হবে। তাই ভয়কে উপক্ষো করেই কাজে যান নির্মাণ শ্রমিক রাকিব। ১৯ জুলাই সকালে সাভারের নর্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি গ্রিল কারখানায় কাজে ছিলেন তিনি। বিকালে বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ একটি গুলি তার গলা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। আর বাসায় ফেরা হয়নি তার। এসব কথা বলতে বলতে কাঁদছিলেন শহীদ রাকিবের মা সুইটির আক্তার। তার গলা জড়িয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বাবা বাবা বলে চিৎকার করছিলেন। রাকিবের গ্রামের বাড়ি নবাবগঞ্জের চুড়াইন ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে। স্বজনরা বলেন, রাকিব কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। হঠাৎ একটি গুলি তার গলা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান রাকিব। রাকিবের মা সুইটি আক্তার জানান, ২০ বছর আগে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়। সন্তানদের বুকে নিয়েই জীবন চলছিল তার। তিন ছেলে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খান সুইটি। পরে গাজীপুরে কখনো পোশাক কারখানায়, কখনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সংসার চালাতেন।...

ওরা আমার বাবাকে মেরে পুড়িয়ে ফেললো কেন?

Image
  ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের ছিল আমার ছেলেটা। পড়াশুনার পাশাপাশি মানুষের ভালো-মন্দ নিয়ে ভাবতো। ন্যায় নীতি, মানুষের অধিকার নিয়েও কথা বলতো। পড়াশুনার প্রতি মনোযোগ ছিল ভালো। আর মাত্র দুই বছর পরেই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হয়ে আসতো। তার আগেই দুনিয়া থেকে নাই হয়ে গেল আমার বাপজান। ছেলেকে নিয়ে এভাবেই স্মৃতিচারণ করছিলেন ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়া শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা খলিলুর রহমান। গলা আটকানো কান্না জরিত কন্ঠে প্রশ্ন রেখে শহীদ সজলের মা শাহিনা বেগম বলেন, ওরা আমার বাবাটাকে গুলি করে মেরে ফেলে পুড়িয়ে ফেললো কেন? কি দোষ আমার সজলের। আমার বুকটা খালি করলো কেন ওরা? ছেলেটার পুড়ে যাওয়া দেহটা সারাক্ষণ কাঁদায়। সজলের বাবা খলিলুর রহমান জানান, ৫ আগস্ট সকালে ছেলেকে ফোন দিলে সে বলেছিলো তোমরা চিন্তা করো না। আমি মিছিলে আছি। বিকেলে বাসায় ফিরবো। এটাই শেষ কথা ওর সাথে। দুপুরের আগে পরে ও রাত পর্যন্ত বারবার ফোন করেও আর পাইনি তাকে। ফোন বন্ধ দেখায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে হতাশ হয়ে পরি। সজলের মায়ের কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে আসতে থাকে। সজলের বাবা খলিলুর রহমান বলেন, মানুষের মুখে ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ...

শহীদ অহিদের দাফন হয় এলাকাবাসীর চাঁদায়

Image
  জুলাই বিপ্লবে ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গাজীপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে উত্তরায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন মো. অহিদ মিয়া (২৭)। সেদিন থেকেই তার হদিস পাচ্ছিলেন না পরিবারের কেউ। শহীদ হওয়ার তিনদিন পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে অহিদের লাশ পাওয়া যায়। লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর অর্থের অভাবে দাফন করতে পারছিলেন না বৃদ্ধা মা ফোরকান বিবি (৬২)। পরে এলাকাবাসীর তোলা চাঁদার টাকায় দাফনকার্য সম্পন্ন হয় শহীদ মো. অহিদ মিয়ার। ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আরিচপুর এলাকা থেকে তিন বন্ধু মো. ইউসুফ মিয়া (২৯), মো. রাশেদুল আলম (২৭) ও মো. মোরশেদ আলমকে (২৭) সঙ্গে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন অহিদ মিয়া। টঙ্গী থেকে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে হেঁটে ছাত্র-জনতার সঙ্গে তারা এগুচ্ছিলেন ঢাকা অভিমুখে। বিএনএস সেন্টারে এসে ফ্লাইওভার থেকে নেমে উত্তরা পূর্ব থানার সামনের সড়কে আসতেই দেখেন গোলাগুলি চলছে। একের পর এক গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে। ঘটনাস্থলে থাকা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতে, সেদিন উত্তরা পূর্ব থানা ভ...

মায়ের আকাশে সূর্য আর উঠবে না

Image
  রাজিয়া সুলতানা বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবে শহীদ আসাদুজ্জামান নূর সূর্যের মা। দিনাজপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিয়ে গত ৫ আগস্ট হিলিতে শহিদ হন নবম শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থী। দু’ভাইয়ের মধ্যে সূর্য ছোট। তাকে নিয়েই সব আশা-ভরসা ছিল মায়ের। গত ৪ আগস্টের পর থেকে এ মায়ের আকাশে সূর্য আর উঠেনি। এ নিয়ে রাজিয়া সুলতানা বলেন, প্রতিদিন মনে হয় সূর্য ডুবে গেছে আর কখনো উঠবে না। এই ভাবনা আমাকে তাড়া করে নিয়ে বেড়ায়। রাতে শুইলেও একই চিন্তা ও ভাবনায় ঘুম আসে না। চোখ বন্ধ হলেই সূর্যের মৃত্যুর ছবি ভেসে ওঠে। আচমকা ঘুম থেকে উঠে বসে থাকি আর কাঁদি। আমার নিকট আত্মীয়-স্বজনরা এই অবস্থা দেখে আমাকে বলে তুই কী করে বাঁচবি। সম্প্রতি কথা হয় দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে শহিদ সূর্যের মা রাজিয়া সুলতানা ও ভাই সুজন মিয়ার সাথে। শহিদ সূর্যের বাড়ি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের রাজিয়া সুলতানার ছেলে। সূর্য (১৫) যখন খুব ছোট তখন তার বাবা মজনু মিয়া মারা যান। এরপর থেকে মা রাজিয়া সুলতানা স্থানীয় হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরের পাশে অবস্থিত একটি জুট ...

সুমনকে হত্যা করে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা

Image
  অভাব-অনটনের সংসারের বাবার আয় দিয়ে দুই ভাই বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব ছিল না। আর তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয় এক ব্রডব্যান্ডের দোকানে খণ্ডকালীন চাকরি নেয় সুমন । রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল, তখন যমুনা তীরের সিরাজগঞ্জও উত্তপ্ত। ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা সিরাজগঞ্জ শহরে মিছিল বের করে। সেই মিছিলে মুক্তিপাগল ছাত্র-জনতার সঙ্গে যোগ দেন সুমন। বাবাকে না জানিয়ে সেই মিছিলে যোগ দিয়ে হাজারো জনতার সঙ্গে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে স্লোগানে কন্ঠ মিলান। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় এস এস রোডের ইলিয়ড ব্রিজের কাছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা মিছিলে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সমুন। শহীদের কাতারে যুক্ত হয় তার নাম। শহীদ সুমন শেখ (২৮) সিরাজগঞ্জ শহরের গয়লা মহল্লার গঞ্জের আলী পুত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী কাঙাল শেখের নাতি। সুমন শেখ ছোট থেকেই রাজনৈতিক সচেতন। বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতেই আগস্ট বিপ্লবে ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নেন তিনি। পিতামাতা, দুই ভাই, এক বোন নিয়ে সুমনের পরিবার। সংসারে ছিল অভাব। বাবা কালীবাড়ী বাজারে একটি চায়ের দোকান করেন, মা গৃহিণী। সিরাজগঞ্জ ...

‘আব্বা আন্দোলনে আছি, বিজয় নিয়েই ফিরবো’

Image
  ‘আব্বা আমি আন্দোলনে আছি, এই মুহূর্তে আসতে পারবো না। বিজয় নিয়েই বাসায় ফিরবো। বাঁচলে বীর, মরলে শহীদ’। এটাই ছিলো বাবা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে শহীদ তানজিল মাহমুদ সুজয়ের শেষ কথা। সুজয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর গ্রামের শফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। গাজীপুর ভাওয়াল সরকারি বদরে আলম কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আশুলিয়া থানার অদূরে একটি ভাড়া বাসায় সুজয় তার বাবার সাথে থাকতেন। ছোট ২ বোন এনি ও স্বর্ণাকে নিয়ে মা তাহমিনা থাকতেন গ্রামের বাড়িতে। বৈষম্যবিরুধী আন্দোলনে প্রথম থেকেই সরব ছিলেন সুজয়। প্রতিদিনের মতোই ৫ আগস্ট যোগ দেন আন্দোলনে। দুপুরের পর থেকে সারা দেশ যখন বিজয় উৎসব পালন করছে ঠিক সেই সময়ে বিকেলে উল্লাসিত জনতার মিছিলে গুলি চালায় সাভারের আশুলিয়া থানা পুলিশ। গুলিতে বাইপালে শহীদ হন তানজিল মাহমুদ সুজয় (১৯), পরে পুলিশ তার মরদেহ ভ্যান গাড়িতে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীসূত্র জানায়, আশুলিয়ার ইসলাম পলিমারস অ্যান্ড প্লাস্টিসাইজারস লিমিটেডের অফিসার ফ্যামিলি কোয়াটারের দেয়াল ঘেষে গুলিবিদ্ধ সুজয়সহ ১১ জন শিক্ষার্থীর মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়...

হেলমেট বাহিনী আমার দুই ছেলের সামনে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে

Image
  ক্ষুদ্র নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী মো. মাসুদের অকাল মৃত্যুতে তার স্ত্রী হেনা বেগম তিন নাবালক সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিন শিশু সন্তান নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন শহীদ মাসুদের স্ত্রী। গত ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে মো. মাসুদ (৪২) যাত্রাবাড়ির রায়েরবাগ এলাকার মেরাজনগর বি-ব্লকের শাহী মসজিদ সংলগ্ন সড়কে আছরের নামাজ পড়তে যান। পথে তার দুই পুত্রের সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের হেলমেট বাহিনী গুলি করে মাসুদকে হত্যা করে। তাদের তিন পুত্রের মধ্যে মাহফুজ (১১) চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মারুফ (৬) এবং নার্সারির ছাত্র মাশরাফিকে নিয়ে দুঃসহ স্মৃতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে মাসুদের পরিবার। সম্প্রতি রায়েরবাগের মেরাজনগর এলাকায় বাসস-এর সাথে আলাপকালে সীমাহীন যন্ত্রণার কথা জানাতে গিয়ে মাসুদের স্ত্রী হেনা বেগম (৩৭) কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘হেলমেট বাহিনী আমার দুই ছেলের সামনে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমার ছেলেরা এখনও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে।’ মায়ের মুখে বাবার স্মৃতিচারণ শুনে বাচ্চারা কাঁদতে শুরু করে। আবেগাপ্লুত হেনা বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের বাবার অবর্তমানে তিন সন্...