Posts

Showing posts from July, 2025

সাহসের আবাবিল

Image
  সাহসের আবাবিল— ওরা এলো হঠাৎ করেই, যেন ঘোর বর্ষায় বজ্রের মতো আকাশ ফুঁড়ে নেমে এলো প্রলয়ের ডানায় ভর করে— আর আমাদের নিঃস্ব বুককে ভরিয়ে দিলো মুক্তির বৃষ্টি ঝরিয়ে। কোথা থেকে এলো, কোথায় যে গেলো— তা জানে না কেউ। কিন্তু জানে এই জনপদের প্রতিটি শিরা-উপশিরা, ওদের স্পর্শে কেঁপে উঠেছিলো একবার। ওরা হারায় না। ওরা থাকে জনপদের প্রতিটি স্পন্দনে— প্রতিটি প্রতিরোধে, বিপ্লবে, অভ্যুত্থানে, পিচঢালা রাস্তায়, চোখের পানিতে, মাথায় জড়ানো পতাকায়, ভালোবাসায়, প্রতিজ্ঞায়, প্রাণের গভীরে গেঁথে রাখা শপথে। আমাদের গর্ব, জুলাই যোদ্ধাদের জানাই আমাদের ভালোবাসা আর অবনত শ্রদ্ধা। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। জীবনের প্রতিটি চিৎকারে, প্রতিরোধে, এই শব্দ ওদের সাহস আর প্রতিজ্ঞা জড়িয়ে বেঁচে থাকুক, চিরকাল। -পিনাকী ভট্টাচার্য।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে জুলাইযোদ্ধা রাইয়ান

Image
  মাথায় দুটি গুলি লাগা জুলাই বিপ্লবের অকুতোভয় সৈনিক রাইয়ান আহমদ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আহত হওয়ার ১০ মাস পরও উন্নত চিকিৎসার অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটছে তার। শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় পরিবারও তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শুরু থেকেই সে সক্রিয় ছিল। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতা বিজয় উৎসব করেন। সে খবর তখনো সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় পৌঁছেনি। রাইয়ান তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে তখনো বিক্ষোভ করছিল চন্ডিপুলে। সেই সময় ওই এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় দুটি গুলি রাইয়ানের মাথায় লাগে। তৎক্ষণাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। মাথায় দুটি গুলি লাগার ফলে তার মস্তিষ্কে মারাত্মক জখম হয়। অল্পের জন্য সে বেঁচে যায়। কিন্তু সেই বাঁচা-মরা এখন তার কাছে সমান হয়ে গেছে। চরম হতাশায় বর্তমানে ঢাকার সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নিচ্ছে এই জুলাইযোদ্ধা। বহু চিকিৎসার পরও তার এক হাত ও কোমর থেকে দুই পা প্যারালাইজড অবস্থায় রয়েছে।জুলাইযোদ্ধা রাইয়ানের বাবা নানু মিয়া বলেন, আমার ছেলের অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। আমি ...

মাথায় গুলিবিদ্ধ আঞ্জু আক্তার এখনো অসুস্থ

Image
  মেয়েকে খুঁজতে গত বছরের ৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হন গৃহবধূ আঞ্জু আক্তার। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার পর বাসায় ফেরার পথে একটি সিএনজি পাম্পের সামনে এলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসার পরও তার মাথায় এখনো ব্যথা রয়ে গেছে। তিনি এখন দুই চোখে কম দেখেন, কানেও কম শোনেন। কোনো কাজ করতে পারছেন না। ফলে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে পরিবার। জানা গেছে, আঞ্জু আক্তার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সবুজ হাওলাদারের স্ত্রী। ১৪ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রিয়া মনি ও মরিয়ম আক্তার নামে দুটি মেয়ে রয়েছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় থাকেন। ৫ আগস্ট রাতে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাসার কাউকে না বলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিল দেখতে যায়। তাকে খুঁজে বের করে বাসায় আসার সময় সিএনজি পাম্পের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আঞ্জু। তবে কোন দিক থেকে কারা গুলি চালায়, কিছুই জানেন না তিনি। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে স্থানীয় আল হেলাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। পরদ...

হাসনাতকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন শাহীন

Image
  বাগেরহাটের মোংলা থানার কচুবুনিয়া গ্রামের সোবাহান হাওলাদার ও কুসুম বেগম দম্পতির বড় ছেলে শাহীন হাওলাদার। অভাবের সংসারে হাল ধরতে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেননি। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করলেও সর্বশেষ গাড়ি চালানো ও ঢাকার গুলিস্তানে রেন্ট-এ কারের ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। জুলাই আন্দোলন শুরু হলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে হওয়া সংঘর্ষে ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন তিনি। তাকে হারিয়ে তিন সন্তান নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন স্ত্রী রিক্তা বেগম। জানা গেছে, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও আনসার সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানেই নিহত হন শাহীন। রিক্তা বেগম বলেন, আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলা হতে দেখে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান শাহীন। এ সময় পেছন থেকে কয়েকজন আনসার সদস্য তাকে মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বমি করে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন তাকে। পরে...

রংপুরে এখনো মামলা করতে পারেনি ১১ শহীদ পরিবার

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুর বিভাগে গেজেটভুক্ত ৬৮ শহীদের মধ্যে এখনো মামলা করতে পারেনি ১১ শহীদ পরিবার। পুলিশের অসহযোগিতা এবং আওয়ামী নেতাকর্মীদের ভয়ে মামলা করতে পারেনি বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর। সম্প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলে গত দুদিনে নতুন মামলা হয়েছে ১১টি, যা নিয়ে বিভাগটিতে সর্বমোট মামলা হয়েছে ৫৭টি। জানা যায়, যেসব শহীদ পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ও যোগাযোগ ভালো ছিল, তারা আন্দোলনের সময় মামলা করেছিল। কিন্তু অনেক পরিবার মামলা করেনি ভয়ভীতির কারণে। শেখ হাসিনা পালানোর পরও আসামিদের জামিন এবং আবু সাঈদের মামলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় মামলা করতে অনাগ্রহ ছিল শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে। তবে সম্প্রতি মামলা করছেন ভুক্তভোগীরা। সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে রংপুর বিভাগে আবু সাঈদসহ ৬৮ জন শহীদ হন । এর মধ্যে রংপুর রেঞ্জে ৬১ ও মেট্রোতে সাতজন। আহত হন এক হাজার ৪৮০ জন। এ সব হতাহতের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার হন তিন হাজার ৬৭৪ জন। যাদের অনেকেই জামিন নিয়ে বের হয়ে এসেছেন। শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুলিতে নিহত হওয়ার পরও অনেককে ...

পুলিশের গুলিতে থেমে যায় মামুনের জীবনসংগ্রাম

Image
  রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আদম বাড়াইপাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মামুন ইসলামকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতেও সংগ্রাম করতে হয়েছিল। এরপর জীবিকার সন্ধানে রাজধানীতে পাড়ি জমান তিনি। একটি গার্মেন্টে কাজ শুরু করেন। দ্রুতই বুঝতে পারেন এই সামান্য আয়ে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। একসময় বন্ধু মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ছোট গার্মেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুন্দরভাবে এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এলোমেলো হয়ে যায় সব। পুলিশের গুলিতে থেমে যায় তার জীবনসংগ্রাম।জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর মিরপুরে আয়োজিত বিজয় মিছিলে যোগ দেন মামুন। সেখানেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। এখন স্বামীকে হারিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছেন শারমিন আক্তার লতা। মামুন ছিলেন তার বাবা-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বাবা আজগর আলী রাজধানীর একটি পাইপ ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। প্রায় এক দশক ধরে পুরান ঢাকার একটি মেসে থাকেন। আর মা তসলিমা বেগম গৃহিণী। বর্তমানে আদম বাড়াইপাড়ায় থাকেন। বৃদ্ধ এই দম্পতি উপার্জনক্ষম বড় ছেলেকে হারিয়ে বর্তমানে অসহা...

‘ছেলের ছবি চোখে ভাসে রাতে ঘুমাতে পারি না’

Image
  শহীদ মো. মোস্তফার জন্ম খুবই দরিদ্র পরিবারে। ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নে ২০২২ সালে গাজীপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির পাশে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। কাজের পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যান। ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ইচ্ছা ছিল জায়গা-জমি কিনে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবেন। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আনসার সদস্যদের গুলিতে ২২ বছর বয়সি এই তরুণের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।শহীদ মো. মোস্তফার বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ধলিরবন্ধ এলাকায়। বাবা মো. স্বপন মিয়া গাজীপুরেই একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মা মর্জিনা বেগম গৃহিণী। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা মোস্তফা ছোট থেকেই খুবই মেধাবী ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। বাবা-মায়ের ইচ্ছায় ২০২৩ সালে কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকার মেয়ে মুন্নাকে বিয়ে করেন মোস্তফা। জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আনসার ভিডিপি একাডেমি এলাকায় যোগ দেন মোস্তফা। সে দিন আনসার সদস্যরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়ে। আন্দোলনে...

বুলেটের যন্ত্রণায় এগারো মাস ধরে ধুঁকছেন রিফাত

Image
  জুলাই বিপ্লবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত হন নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বাসিন্দা রিফাত হোসেন। গত বছরের ১৮ জুলাই দুপুর ১২টার সময় রাজধানীর উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকায় পুলিশের চারটি গুলি তার গায়ে লাগে। এর মধ্যে তিনটি গুলি বের করা হয়েছে। তবে নাকের ভেতরে আটকে থাকা গুলির যন্ত্রণায় ১১ মাস ধরে ভুগছেন তিনি।জুলাইযোদ্ধা রিফাত ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের এন্দোয়া গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে। তার মায়ের নাম ফরিদা বেগম। ২২ বছর বয়সি রিফাত ধামইরহাটের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত আগ্রাদ্বিগুন বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকার একটি কলেজ থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন। পরে উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। জুলাই বিপ্লবের অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন রিফাত। তার নেতৃত্বে ছাত্রদের কয়েকটি অংশ রাজপথে লড়াই সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের তালিকায়’ তার নাম অন্তর...

বিজয় মিছিলে গিয়ে লাশ হয়ে ফেরেন আল আমীন

Image
  ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল পুরো দেশ। সকাল থেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটছিল বেলা। ওইদিন দুপুরের দিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরই উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। যুদ্ধযাত্রা বদলে যায় বিজয় মিছিলে। সেই মিছিলের একজন ছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়ার বিঝারি ইউনিয়নের দক্ষিণ মগর গ্রামের মোহাম্মদ আল আমীন মীর মালত (২৯)। সবাই বিজয় মিছিলে আনন্দ করলেও তার ওপর নেমে আসে বিষাদের ছায়া। পুলিশের গুলিতে নিভে যায় যৌবনদীপ্ত তাজা প্রাণ। পারিবারিক সূত্র জানায়, আল আমীনের বাবা ইসমাইল মীর মালত স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সৌদি আরবে থাকতেন। জুলাই বিপ্লবের বছরখানেক আগে দেশে ফেরেন। কিন্তু আল আমীন তখন প্রবাসে ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনের চার মাস আগে ফিরে আসেন তিনিও। থাকতেন বাবার সঙ্গে সাভারের বাইপাইল এলাকায়। সেখানে তিনি একটি মুদি দোকান চালাতেন।জানা গেছে, ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে অংশ নেন আল আমীন। মিছিলটি বাইপাইল গেলে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। একের পর এক লাশ পড়তে থাকে। লোকজন ভ্যানে লাশ নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছোটাছুটি করতে থাকে। ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যান আল আমীন। সন্ধ্যায় বাসায় না ফেরায় আশপাশে ...

পা হারানো হাফেজ জুনায়েদের পরিবারকে গ্রাস করেছে দারিদ্র্য

Image
  প্রতিবন্ধী বাবা হাবিবুর রহমানের একমাত্র ছেলে হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহমদ। কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। টিউশনি করে চালাতেন নিজের ও পরিবারের খরচ। গত বছর হওয়া জুলাই অভ্যুত্থানে যোগ দিয়ে পুলিশের গুলিতে হারান তার একটি পা। এরপর থেকে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায় পরিবারটির। মানুষের সহায়তা পেলে খাবার জোটে, না হয় থাকতে হয় তাদের অভুক্ত।জানা যায়, জুনায়েদ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের ও পরিবারের খরচ চালাতেন। কিন্তু পুলিশের গুলিতে পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে তাকে। জুনায়েদ বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরে শাহবাগ ও গণভবন ঘেরাও করার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য মাদরাসার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রওনা হই। এর মধ্যে পথেই পুলিশের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যাই। এ সময় একটি ভ্যানের পেছনে গিয়ে আশ্রয় নিই। দীর্ঘক্ষণ পালিয়ে থাকার পর বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ আমাদের কাছে চলে আসে। পুলিশের কাছে মাফ চেয়ে পাশের গলি দিয়ে দৌড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের গুলি করে। আহত অবস্থায় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হা...

আবুজরকে হারিয়ে বিপাকে ৩ পরিবার

Image
  জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পশ্চিম নয়ানগরের বাসিন্দা মৃত তারা মিয়ার ছেলে আবুজর। তিনি ছিলেন একজন প্রাইভেটকার চালক। তার ওপর নির্ভরশীল ছিল মা, নিঃসন্তান বিধবা খালা এবং নানির পরিবার। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি, মৃত্যু হয় ২৭ জুলাই। তাকে হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে তিনটি পরিবার। জানা যায়, আবুজর ছিলেন প্রাইভেটকার চালক। চাকরি করতেন ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার একটি কোম্পানিতে। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় পুলিশ গুলি করলে তা আবুজরের বুকে বিদ্ধ হয়। গুলি তার বুকের পাঁচটি স্থান ছেদ করে শরীরের অপর প্রান্তে গিয়ে থেমে যায়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি সেখানে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২৭ জুলাই রাত ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারের পাশাপাশি খালা ও নানির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মা সুফিয়া বেওয়া, খালা ও নানি—তিনজনই অসহায় হয়ে পড়েন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবুজরের মৃত্যুর পর থেকে তার খালার ...

এখনো সিআরপির বেডে যশোরের তরুণ আপন

Image
  আবদুল হাকিম আপন ১৯ বছরের টগবগে তরুণ। বৈষম্য আর আওয়ামী লীগের নারকীয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো লাখো তরুণের একজন। তাদের কাছে পরাজিত হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় ৫ আগস্ট আনন্দের জোয়ারে যখন ভাসছে দেশ, তখনই ঘটা একটি ঘটনায় জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায় তার। যশোর শহরের চাঁচড়ায় মহাসড়কে সেদিন অবস্থান নিয়েছিল হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। আপন ছিলেন তাদেরই একজন। দুপুরের দিকে যখন হাসিনা পালানোর খবর চারদিকে চাউর হয়, এর কিছু সময়ের মধ্যে ছাত্র-জনতার বিশাল মিছিল ঢুকে পড়ে শহরের কেন্দ্রে। ওই মিছিলে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ মানুষের কেউ কেউ ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় শহরের সবচেয়ে উঁচু ভবন ‘জাবির হোটেল’-এ, ভবনটির মালিক আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন চাকলাদার।সেদিন আগুনের কারণে হোটেলে আটকে পড়ে বহু মানুষ। বিপদ আঁচ করতে পেরে ওই মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাই ভেতরে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারে নেমে পড়ে। তাদের মধ্যে ছিলেন আপনও। তার বর্ণনায়, পাশের বিদ্যুৎ অফিস থেকে লম্বা মই জোগাড় করে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে থাকি। কয়েকজনকে নামাতেও পারি। কিন্তু মানুষের ভারে একপর্যায়ে মই ভেঙে পড়ে। আমরা মোট ছয়জন ছিটকে...

ছেলেকে এখনো ফিরে পাওয়ার আকুতি মায়ের

Image
  পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম এমদাদুল হকের। পিতা ছোবাহান হাওলাদার ও মা ফাতিমা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের কারণে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হলেও বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও সংসার চালাতে গাড়ি চালানোর পেশা বেছে নেন। মাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন তার আর কষ্ট করতে হবে না। কিন্তু সেই তরতাজা যুবক ঘরের সুদিন ফেরানোর পরিবর্তে ফিরলেন লাশ হয়ে। এরপর থেকে শোকে বিহ্বল মা ফাতিমা  ,জানা যায়, গত বছরের ২০ জুলাই এমদাদুল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে উত্তর বাড্ডার এএমজেড হাসপাতালের সামনে পুলিশ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। খুব কাছ থেকে ছোড়া পুলিশের গুলি কপাল ভেদ করে তার মাথা চিরে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়, ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। সহযোদ্ধারা হাসপাতালে নিতে গেলে মাঝপথেই তার মৃত্যু হয়। লাশ গ্রামে পৌঁছলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য জানাজা বন্ধের অপচেষ্টা চালায়। তবে জনরোষে তারা পিছু হটলেও দাফনে অংশগ্রহণকারীরা পরে নানা হুমকির মুখে পড়েন। ছেলের চলে যাওয়ার ১১ মাস হতে চললেও মা ফাতিমার মন মানতে চায় না। অসম্ভব জানার পরও...

দেশরক্ষায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল শাওনের

Image
  শাহাদাত হোসেন শাওন। সামছুন্নাহার ও বাছির আলম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোটজন ছিল সে। স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের অভাব দূর করার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল। গত ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে যোগ দিলে পুলিশের গুলিতে উড়ে যায় তার মাথার খুলি। অত্যন্ত মিশুক সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মা এখনো শোকগ্রস্ত। জানা যায়, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের খাজুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বাছির আলম। পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। তিনি হালিম ও ফুসকা বিক্রি করে পরিবার চালাতেন। অভাবের মধ্যেই শাওনকে যাত্রাবাড়ীতে একটি মাদরাসায় ভর্তি করেন। সে ৫ আগস্ট পতাকা হাতে নিয়ে হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে বিজয় মিছিলে যোগ দেয়। মিছিলটি যখন হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর উঠে তখন পুলিশের গুলিতে শাওনের মাথার খুলি উড়ে যায়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন গিয়ে হাসপাতাল থেকে ওই বিকেলে তার লাশ বাসায় নিয়ে আসে। পরদিন সেনবাগের খাজুরিয়ার সর্দারপাড়া...

সাগরের জন্য এখনো ডুকরে কাঁদেন বাবা-মা

Image
  একমাত্র সন্তান সাগর আহমেদকে নিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল আকাশচুম্বী। ছেলেও বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের পথেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলি তার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিল। এরপর থেকে শোকে মুহ্যমান বাবা-মা। যখনই ছেলের কথা মনে পড়ে তখনই কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। জানা যায়, সাগর ঢাকার মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেন। জুলাই বিপ্লবে ১৮ জুলাই শাহবাগে প্রথম গুলিবিদ্ধ হন। এরপর ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বরে আবার তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন তাকে কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। গুলি তার চোখ ভেদ করে মাথার পেছন দিয়ে মাংসপিণ্ডসহ বেরিয়ে যায়। পুলিশ সরে গেলে সাগরের এক সহযোদ্ধা জিয়া, সাগরের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন থেকে তার গুলি লাগার সংবাদ বাড়িতে জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে সাগরকে আজমল প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে ফিরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন কর্তব্যরত ডাক্তার সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন।সাগরের বাবা তোফাজ্জেল মণ্ডল জানান, ২০ জুলাই সাগরের মরদেহ গ্রামের বাড়ি নারুয়ায় আনার পর পুলিশের চাপ ছিল তাড়াতাড়ি লাশ দাফনের। বাদ আসর জানাজা পড়ানোর সময় ন...