Posts

Showing posts from August, 2024

রোহান আর মাহাদীর স্বপ্ন থেমে গেল গুলিতে

Image
  রোহান আহমেদ খান আর মাহাদী হাসান (পান্থ) ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একসঙ্গে বড় হয়েছেন। রোহান বিজ্ঞান আর মাহাদী কমার্স থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে গত ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন তাঁরা। রোহান মারা যান দুপুরে আর মাহাদী সন্ধ্যার আগে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁরা সরাসরি কোটা আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না। হয়তো পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন। তবে যাত্রাবাড়ীর ঠিক কোন জায়গায় তাঁরা গুলিবিদ্ধ হন, তা পরিবারের সদস্যরা জানেন না।   উদ্ধারকারী ব্যক্তিরা হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে তাঁদের গুলি লাগার কথা জানান। রোহান আর মাহাদীর বাসা যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দনিয়ায় কাছাকাছি দূরত্বে। মাহাদীর বাসা পাটেরবাগে আর রোহানের বাসা বায়তুস সালাম জামে মসজিদ রোডে। তাঁরা বন্ধু ছিলেন। বুধবার দুপুরে তাঁদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, কলেজের পোশাক ও বইপত্র ঠিক সেভাবেই সাজানো রয়েছে। শুধু মানুষ দুজন নেই। ক্ষতিপূরণ চান না মাহাদীর বাবা মাহাদী পড়তেন নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে। ১৯ জুলাই শুক্রবার বিকেল চারটার পর ‘একটু ঘুরে আসছি’ বলে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। দুপুরে বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন আর অনার্সে পড়া বড় ভাই মে...

কথা ছিল টাকা পাঠানোর, বাড়ি এল রহমানের লাশ

Image
  ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। ওই দিন গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান পোশাককর্মী আবদুর রহমান রহমত (১৯)। আবদুর রহমানের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম কাজলা ইউনিয়নের জামথল চরে। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে থমকে গেছে পুরো পরিবার। চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রহমানের বড় ভাই আল আমিন ঢাকা কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনিও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। গত রোববার জামথল চরে তাঁদের জরাজীর্ণ বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে কথা হয় আল আমিনের সঙ্গে। ছোট ভাইয়ের প্রসঙ্গ তুলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আল আমিন। বলেন, চার ভাইবোনের মধ্যে শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন রহমান। লেখাপড়া শেষে ভালো একটা চাকরি করে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়। অভাবের তাড়নায় বন্ধ হয়ে যায় পড়ালেখা। দুর্গম চরাঞ্চলে বসে না থেকে...

‘লাশ দেইখ্যা তো আমি বেহুঁশ, অত গুলি কি লা করল’

Image
  ‘লাশ দেইখ্যা তো আমি বেহুঁশ। অত গুলি কি লা করল। ছেলেটার বুক গুলিতে ঝাঁঝরা আছিল। আমার ছেলের বুকখান চোখও লাগি রইছে। আমরা অখন কিলা চলমু, আমারে ওষুধের টেখা দিব কেটায়।’ কথাগুলো বলেই ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন ষাটোর্ধ্ব আবুল কালাম (৬৪)। ছেলের কথা মনে হলেই তিনি নীরবে কাঁদেন। হতদরিদ্র আবুল কালাম ছেলেকে হারিয়ে এখন দিশাহারা। তাঁর আফসোস, ছেলেটা দেনার চাপে ছোট ভাইকে নিয়ে গ্রাম ছেড়েছিলেন। বলেছিলেন, ঋণ শোধ করে গ্রামে ফিরবেন। কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরবেন, কখনো ভাবতে পারেননি আবুল কালাম। ৫ আগস্ট আবুল কালামের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৪) ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরদিন গ্রামের বাড়িতে এনে তাঁর লাশ দাফন হয়। আবুল কালামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামে। এক সময় এলাকায় রিকশা চালাতেন। এখন বয়স হওয়ায় ও রোগে-শোকে কাজ করতে পারেন না। বাড়িতেই থাকেন। আবুল কালাম জানান, তাঁর পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে বড়, বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের মধ্যে সোহাগ দ্বিতীয়। চার বছর আগে সোহাগ সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেন। এরপর জমি, ঘরের গরু আর মহাজনি সুদে ঋণ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা জোগাড় করে দালালকে দেন। কিন...

১১ দিন পর লাশ মিলল ঢাকার হাসপাতালে

Image
  ছাত্র–জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গণমিছিলে অংশ নিয়েছিলেন পোশাকশ্রমিক মো. আয়াতুল্লাহ। এর পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ১১ দিন পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়কের সহায়তায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে তাঁর লাশ পেয়েছেন স্বজনেরা। নিহত আয়াতুল্লাহর বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের জলুষা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কৃষক মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে। গতকাল শুক্রবার রাতে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তাঁর লাশ শনাক্ত করেছেন তাঁর বড় ভাই সোহাগ মিয়া। এলাকাবাসী ও স্বজনেরা জানান, মধ্যনগরের জলুষা গ্রামের সোহাগ মিয়া (৩২) চার বছর ধরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করেন। মাসখানেক আগে তাঁর ছোট ভাই আয়াতুল্লাহ আরেকটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন। ৫ আগস্ট বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তিনি গাজীপুরের সফিপুর আনসার একাডেমির সামনে গণমিছিলে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হন। ওই দিন আনসার একাডেমির সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর তাঁর বড় ভাই সোহাগ মিয়া গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন হা...

অনাগত সন্তানকে আদর করা হলো না সোহেলের

Image
  স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। প্রথমবারের মতো বাবা হবেন সোহেল রানা (৩০)। খুশিতে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ঢাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। স্ত্রীকে নিয়েই ভাড়া বাসায় থাকতেন। তবে বাসায় একা থাকতে হয় দেখে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন সোহেল। শেষবার যখন স্ত্রীর সঙ্গে সোহেল রানার মুঠোফোনে কথা হয়, তখন তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘চিন্তা কোরো না, বাবুটা পৃথিবীতে যেদিন আসবে, তার আগেই সময়মতো আমি পৌঁছে যাব। তোমার আগেই আমার বাবুটাকে আমি কোলে নিয়ে আদর করব।’ সন্তানকে কোলে নিয়ে সেই আদর করার ইচ্ছাটুকু আর পূরণ হয়নি সোহেল রানার। সন্তান পৃথিবীতে আসার অগেই ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন তিনি। বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কর দিনমজুর ফেরদৌস প্রামাণিকের ছেলে সোহেল। কাহালু ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সোহেল রানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় মা মাবিয়া বিবি। শোক কাটছেই না। কান্না করতে...

Shot six times, Amir lives to tell his tale

Image
  After broadband internet was restored in select areas on July 23, a video dated from July 19 began circulating on social media showing a boy hanging from the cornice of an under-construction building. Two cops then arrive at the scene and several rounds of gunshots are heard. The video shows police pointing their guns at the boy, who is desperately hanging on for his life. The footage led many to believe that the person in the video had been killed on the spot. This correspondent spoke to eyewitnesses and verified the authenticity of the video through geolocation tracking on July 24. It was confirmed that the footage was from a building near Meradia Bazar in Rampura. Visiting the under-construction building, this correspondent saw bloodstains marking the third and fourth floors. However, this was all circumstantial evidence, and without tracing the body, The Daily Star could not confirm the death. Despite efforts to track down the body to confirm the death, all attempts failed. H...

২২ দিনের আন্দোলন, নিহত অন্তত ৬৫০

Image
  ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে নিহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি থেকে শুরু হওয়া সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের আগে-পরের বিক্ষোভ-সংঘাত-সহিংসতায় অন্তত ৬৫০ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়-ওএইচসিএইচআর। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত সংস্থাটির 'বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতা বিষয়ে প্রাথমিক বিশ্লেষণ' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও একই দিনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (বর্তমানে পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহত মানুষের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। ওএইচসিএইচআর—এর ১০ পৃষ্ঠার ওই প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং আন্দোলনকারীদের তথ্য অনুযায়ী ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে নিহত হয়েছেন ছয় শতা...

‘ওরা কেন চোখে গুলি করল?’

Image
  'বেঁচে গেলেও একটা চোখে তো আর দেখতে পাবে না। ওর জীবন তো আর আগের মতো হবে না।' কোটা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গত বৃহস্পতিবার উত্তরায় যখন পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ডগ্রেনেড ছোড়ে তখন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন ১৮ বছরের মো. ইমরান। এসময় পুলিশের ছররা গুলি ইমরানের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এসে লাগে। এমনকি তার মাথা আর চোখও বাদ যায়নি। গত রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ইমরান। পাশেই ছেলের জন্য কাঁদছেন মা। অপারেশন করেও তার একটি চোখ রক্ষা করা যায়নি। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তার মাথার ভেতরে ঢুকে যাওয়া ছররা গুলি অস্ত্রোপচার করে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। মা পারভীন বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ইমরান আমার একমাত্র ছেলে। ও কোনোরকমে বেঁচে আছে। আমার চোখের সামনে তার একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেল। অন্য চোখটার অবস্থাও ভালো না। এখনো ওর মাথার ভেতরে ছররা গুলি রয়ে গেছে। 'ওরা আমার ছেলেকে কেন গুলি করল? ওরা কেন চোখে গুলি করল? ওর কী দোষ ছিল? একটা ন্যায্য আন্দোলনে যোগ দেওয়া কি অপরাধ ছিল?' হতাশা আর ক্ষোভ থেকে কথাগুলো বলছিলেন পারভীন বেগম। তিনি বলেন, 'ইমরান বেঁচে ...

রাতে অফিস থেকে ফিরে নিশার সঙ্গে এখন কে খেলবে

Image
  বাবা তাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছে, সেটা বোঝার মতো বয়সও এখনো হয়নি এই দুই শিশুর। স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বেশ ছিমছামভাবেই চলছিল ফারজানা পপির সংসার। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সব তছনছ হয়ে যায়। ওই দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় যাত্রাবাড়ীতে সংঘর্ষে নিহত হন পপির স্বামী সাংবাদিক হাসান মেহেদি। মেহেদির মৃত্যুতে মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় তাদের এতদিনের সাজানো সংসার। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে নিশার বয়স তিন বছর ও মেহেরের ছয় মাস। বাবা তাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছে, সেটা বোঝার মতো বয়সও এখনো হয়নি এই দুই শিশুর। শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গের সামনে বড় মেয়ে নিশাকে নিয়ে পপিকে বসে থাকতে দেখা যায়। স্বামীর মরদেহ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পপি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পরিবারের বিরুদ্ধে যেয়ে আমরা বিয়ে করি বছর পাঁচেক হলো। দুই মেয়েকে ঘিরে আমাদের সুখের পরিবার ছিল। কিন্তু এখন সব শেষ হয়ে গেল...' 'নিশা এখনো ভাবছে প্রতিদিন রাতের মতো আজও তার বাবা অফিস থেকে বাসায় ফিরে তার সঙ্গে খেলবে', বলেন তিনি। মর্গের সামনে নিশা মায়ের কাছে বাবার খোঁজ নিচ্ছিল তখন। 'দুই মেয়েকে এখন কীভাবে সংসার চা...

শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্কুলশিক্ষকের আত্মত্যাগ

Image
  ছাত্রদের ওপর নির্বিচার গুলি করার দৃশ্য দেখে তিনি নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিতে এসে আর ঘরে ফেরা হয়নি বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল লাইট হাইস্কুলের শিক্ষক সেলিম হোসেনের। গত ৪ আগস্ট বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান সেলিম হোসেন। সেলিম হোসেনের বাড়ি বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার পালিকান্দা গ্রামে। তিনি মা-বাবা-ভাইদের নিয়ে থাকতেন বগুড়া শহরের তেলিপুকুর এলাকায়। সেলিম হোসেনের ছোট ভাই উজ্জ্বল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এর আগে কখনো মিটিং-মিছিলে যেতেন না। কিন্তু আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর নির্বিচার গুলি করার দৃশ্য দেখে তিনি নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। ভাই বাড়িতে মিথ্যা কথা বলে এসে শহরে ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিতেন।' সেলিম গত ৪ অগাস্ট সকাল ১১টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তার ছোট ভাই উজ্জ্বলও সেদিন আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উজ্জ্বল বলছিলেন, 'আমি পুলিশের টিয়ারশেলে আহত হলে দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে চলে আসি। ভাইয়ের সঙ্গে থাকা শ...

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অন্তত ৫৫০ জন এক চোখ, কিংবা দুই চোখই হারিয়েছেন

Image
  আমি জানি না কবে আমি আমার নিজের জীবনে ফিরতে পারব। কবে মাঠে খেলতে যেতে পারব, বন্ধুদের সঙ্গে ছুটে বেড়াব।’ 'আমি তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমাকে কেউ একটু সাহায্য করবেন,' জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার আগে চিৎকার করে শুধু এই কথাগুলো বলেছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আল আমিন হাওলাদার। পুলিশ সেদিন বরিশালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। স্কুলছাত্র আল আমিনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পরে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। ঢাকার হাসপাতালে তারই মতো শত শত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিল। যাদের মধ্যে অনেকে জুলাই-আগস্টের এই ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছররা গুলিতে আংশিক অনেকে পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইওএইচ) পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জানান, শুধু এই হাসপাতালেই আন্দোলনের সময় চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়া সাতশ'র বেশি রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৬৬ জন এক চোখের এবং ১৭ জন দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আল আমিন জানায়, নগরীর হাতেম আলী বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সে। গত ১৭ জুলাই বন্ধুবান্ধব...