Posts

Showing posts from January, 2026

‘বাবা তুই আমারে কিছুই বলে গেলি না, ঘুমিয়ে রেখে চলে গেলি’

Image
  দীর্ঘ দেড় বছর পর প্রিয় সন্তানের কবরের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন উত্তরায় নিহত ফয়সাল সরকারের মা হাজেরা বেগম, যাত্রাবাড়ীতে নিহত সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম, মাহিমের মা জোসনা বেগম ও স্ত্রী। এ সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। যাত্রাবাড়ীর কাজলায় আন্দোলনে শহীদ সোহেল রানার মা ছেলের কবরের সামনে গিয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ছেলের নানা স্মৃতি তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘বাবা, তুই আমাকে কিছুই বলে গেলি না। আমার পায়ে তেল মালিশ করে ঘুমিয়ে রেখে গেলি। বাবা, আর তোরে পাইলাম না।’মা রাশেদাসহ আট শহীদের স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের কবর পেয়ে কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ মাটি ছুঁয়েছেন, কেউ কবরে লাগানো গাছে হাত বুলাচ্ছেন। সবার চোখের পানিতে ভাসছিল নানা স্মৃতি। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক মাসের চেষ্টায় রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা অজ্ঞাত শহীদদের মধ্যেে আটজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। সোমবার সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ ও অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে স্বজনদের কবর বুঝিয়ে দ...

নামহীন আট শহীদের কবরে ফিরল পরিচয়

Image
  রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, ৫ জানুয়ারি ২০২৬। দিগন্তবিস্তৃত মাটির বুকে এতদিন যে কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল শুধুই নম্বর অথবা নির্মম ‘অজ্ঞাতনামা’ শব্দটি। জুলাই ২০২৪-এর অগ্নিগর্ভে রদিনগুলোতে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হওয়ার পর বহু প্রাণ নিথর হয়ে আশ্রয় নিয়েছিল এই মাটির নিচে—রিচয়হীন, স্বজনহীন অবস্থায়। ডিএনএ প্রযুক্তির কল্যাণে এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নিরলস প্রচেষ্টায় রায়েরবাজারের সেই নামহীন কবরগুলো ফিরে পেতে শুরু করেছে, তাদের হারানো মর্যাদা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘মিনেসোটা প্রটোকল’ অনুসরণ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মানবিক ও ফরেনসিক উদ্যোগ। গতকাল সোমবার কবরস্থানে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে ১১৪ জন শহীদের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং কবর চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। উত্তোলিত লাশগুলোর ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে আবেদনকারী ৯টি পরিবারের মধ্যে আট শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা...