Posts

Showing posts from November, 2024

ঘুমের মধ্যে শোনেন গুলির শব্দ

Image
  এখনো ঘুমের মধ্যে মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ পান জাহিদুল ইসলাম। শোনেন গ্রেনেডের শব্দ। হঠাৎ জেগে উঠে শুরু করেন স্লোগান। কখনো কখনো নিজের শরীরে আঘাত করতে থাকেন। হাতের কাছে যা পান ভাঙচুর করেন। ঘর থেকে বের হয়ে যান। ‘আমার ভাই আবু সাঈদ’ কোথায় বলে চিৎকার করতে থাকেন। নরসিংদীতে ছাত্র–জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়া জাহিদুল ইসলাম তিন মাস ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। জাহিদুলের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে। আন্দোলনের পর মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় নরসিংদী থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয় তাঁকে। ধীরে ধীরে মানসিক অবস্থার চরম অবনতি হলে ৮ অক্টোবর তাঁকে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। আন্দোলনের ঘটনায় মানসিক চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অবস্থাভেদে সাইকোথেরাপি, কাউন্সেলিং এবং ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলছে। এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যঁারা এ ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তঁাদের উচিত দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা। মুনতাসীর মারুফ,  সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বর্তমানে ইনস্টিটিউটের ৫ম তলার ১২৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছেন জাহিদুল ইসলাম। গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁর মা রুমা বেগম...

অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মারা গেছেন

Image
  ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ (২৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান আবদুল্লাহ। এ নিয়ে এই আন্দোলন ঘিরে গত ১৬ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ৭৬৭ জনের মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছে প্রথম আলো। সরকার এখন পূর্ণাঙ্গ তালিকা করছে। খসড়া তালিকায় নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে ৮৭২ জন (৩০ অক্টোবর, ২০২৪)। আবদুল্লাহ পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল্লাহর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরান ঢাকার বংশাল থানার সামনে আবদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর কপালে গুলি লাগে। তিনি প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা রাস্তায় পড়ে ছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে...

বুলেটে ঝাঁজরা শরীর নিয়ে লড়ছেন আরিফ

Image
  মো. আরিফ হোসেন (২১)। মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে পুলিশের ছোড়া বুলেটে ঝাঁজরা পুরো শরীর। প্রায় ২ মাস চিকিৎসা নিচ্ছেন ঘাটাইলের আরিফ। স্থানীয় ধলাপাড়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেছেন তিনি। হত-দরিদ্র ঘরের সন্তান তিনি। বৈষম্যের শিকল ভাঙতে তিনিও যোগ দিয়েছিলেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে। উপজেলার শালিয়াবহ গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র আরিফ হোসেন। জুলাই অভ্যুত্থানের মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিচ্ছিলেন তিনি। ১৯শে জুলাই ঢাকার উত্তরা বোনের বাসায় বেড়াতে যান আরিফ। ২০শে জুলাই বিকালবেলা চা খাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। এমন সময় দেখেন উত্তরা ৭নং সেক্টরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছে। তখন সন্ধ্যা ৭টা। আরিফ হোসেন বসে না থেকে সংযুক্ত হন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, মিছিলে কিছু পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা। এমন সময় পুলিশের তিনটা গাড়ি আসে। ওই গাড়ি থেকে ভারী অস্ত্রে মুহুর্মুহ গুলি ছুড়ে পুলিশ। তাদের ছোড়া গুলি পিঠবিদ্ধ হয়ে আমার বুকের পাঁজর ও ড...