Posts

Showing posts from May, 2025

ধারদেনা করে চলছে ইমরানের পরিবার

Image
  ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে গত ৪ আগস্ট মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মোহাম্মদ ইমরান। এরপর দীর্ঘদিন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে বাড়ি ফেরেন। তবে সম্পূর্ণ স্মৃতি ফিরে পাননি তিনি। এখনো শুকায়নি তার মাথায় গুলির ক্ষতচিহ্ন। তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের আয়ের একমাত্র সম্বল অটোরিকশা বিক্রি করে দেন বাবা বিল্লাল। তার বাবার আয়ে চলত ছোট ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে ইমরানের পরিবারের। এখন ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে পরিবারটিকে। জানা যায়, ইমরানের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে। তিনি এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তার পরিবারে মা-বাবা, দুই ভাই-বোন ও বৃদ্ধা দাদি রয়েছেন। তিনি ভাই-বোনদের মধ্যে বড়। তার বাবা বিল্লাল পেশায় রিকশাচালক। তাদের বসতঘরের জায়গা ছাড়া চাষযোগ্য কোনো জমি নেই। অভাব-অনটনে পড়ে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন ইতালিতে। এজন্য স্থানীয় এক দালালের কাছে টাকা ও পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। ইতালি যেতে আরো বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে তাই তিনি আশু...

সুস্থ হতে আরো বহুদিন লাগবে মুরাদের

Image
  গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ ঈশ্বরদীর মুরাদ হোসেন সুস্থ হয়ে উঠতে এখনো লড়াই করে যাচ্ছেন। এই যুবক থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ভেজথানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মুখে হালকা শব্দ ফুটলেও শরীরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হবে আরো দীর্ঘ সময়। চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিকভাবে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে হলে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। জানা গেছে, গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকায় আন্দোলনের সময় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন মুরাদ। তিনি তখন রাজধানীর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মুরাদকে ভর্তি করা হয় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের আইসিইউতে। গলা ও স্পাইনাল কর্ডে গুলিবিদ্ধ হয়ে টানা চার মাস অচেতন ছিলেন। পরে তাকে পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই শরীর থেকে বের করা হয় দুটি গুলি। এরপর থেকেই তার শরীর প্যারালাইজড হয়ে পড়ে। মুরাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে ব্যাংককের ভেজথানি হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, এখন মুরাদ কাশি দিয়ে নিজে নিজেই কফ বের করতে পারছেন। খাবার খেতে পারছেন নার্সদের সহায়তায়। তার মুখে হালকা কথা ফুটছে। প...

গ্রামে ঘর বানানো হলো না আসিফের

Image
  টাকা জমিয়েছিলেন গ্রামে ঘর বানাবেন বলে। পরিকল্পনা ছিল সেখানেই বসবাস করবেন। ঘরের কাজ শুরুও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কাজ শেষ করার আগেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হন। বলছিলাম মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনয়নের নোহাটা গ্রামের আসিফ ইকবালের কথা। ‍তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাস করে একটি গার্মেন্টসের বায়িং ডিপার্টমেন্টে চাকরি করতেন। জানা গেছে, গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুর এলাকা ছিল উত্তাল। সেদিন বাসার পাশে মসজিদ থেকে আসরের নামাজ আদায় করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন আসিফ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালায়। একই সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়। এ সময় আসিফের বুকে গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন বন্ধুরা আসিফকে আল হেলাল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । সেখানে সন্ধ্যা ৭টায় তার মৃত্যু হয় । আসিফের বাবা এম এ রাজ্জাক বলেন, আসিফের খালাতো ভাই রাশেদুল লাশ বাড়ি নেওয়ার ব্যাপারে আমার সঙ্গে কথা বলে। রাশেদুল...

ছেলের জন্য দুধ কিনতে বের হয়ে শহীদ হন শুভ

Image
  চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার শুভ। কৃষক পরিবারের সন্তান শুভ ঢাকার একটি লিফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করতেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকার মিরপুরে ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। চারদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার একমাত্র সন্তান মুহিনের বয়স এখন মাত্র দেড় বছর। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন দাদা-দাদি। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুরে সন্ধ্যায় ছেলের জন্য দুধ কিনতে বের হয়েছিলেন শুভ। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারদিন পর ২৩ জুলাই তার মৃত্যু হয়। শুভর আয়ে চলত পরিবার। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশাহারা। প্রতিবেশী আলাউদ্দিন ডাক্তার জানান, শুভ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের ওপর নির্ভর করে তার ভাই সিয়াম আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী আবু ...

গুলিবিদ্ধ রাকিবের খবর রাখেননি কেউ

Image
  জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাকিব। গুলি তার বুক দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। সবাই ভেবেছিলেন তিনি মারা গেছেন। তবুও কয়েকজন তাকে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। এ খবর বাড়ি পৌঁছানোর পর কান্নার রোল পড়ে যায়। এরই মাঝে খবর আসে তিনি বেঁচে আছেন। সে সময় এই শ্রমিকের খোঁজখবর নিতে অনেকেই হাসপাতালে এসেছিলেন, বলেছিলেন সাহায্য-সহযোগিতার কথাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খোঁজ রাখেননি কেউই। এখন অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে তার পরিবার। জানা গেছে, রাকিব মোল্যার বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল মোল্যাপাড়া এলাকায়। তিনি ভ্যানচালক হান্নান মোল্যার বড় ছেলে। কাজ করতেন একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে। টিভিতে আন্দোলনের খবর দেখে ২০ জুলাই তিনিও যোগ দেন ছাত্র-জনতার সঙ্গে যাত্রাবাড়ী এলাকায়। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলিবিদ্ধ রাকিব মোল্যা জানান, ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় থাকতেন তিনি। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুপুত্রকে দেখতে ফরিদপুর গিয়েছিলেন। ৯ দিনের ছোট্ট ছেলেকে বাড়িতে রেখে দুদিন পর কাজের জন্য আবারও ঢাকায় ফেরেন। কারফিউতে দুদিন আটকা থাকেন বাসায়। এরপর টিভ...

আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে সেলিমকে

Image
  বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরাইল এলাকায় অবস্থিত লাইট হাউস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন শহীদ সেলিম হোসেন। জন্ম বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পালিকান্দা গ্রামে। অভাব-অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা সেলিম কৃষক সেকেন্দার আলি ও মনোয়ারা বেগম দম্পতির বড় সন্তান। জুলাই আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট দুপুরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পরিকল্পিত হামলায় শহীদ হন তিনি। জানা যায়, ভাইদের নিয়ে জুলাই আন্দোলনে যোগ দেন সেলিম। ৪ আগস্ট বগুড়ার সাতমাথার কাছে ডাকবাংলোর ভেতরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে তাকে। শহীদ সেলিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কান্না করছেন। পাশে ছোট ছেলে আয়নাল মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় তার বাবা একটি মুদি দোকান দিয়েছেন। সেলিমের বাবা সেকেন্দার আলি বলেন, আমার বয়স হয়েছে। জমিতে আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল সেলিম। তার আয়ে মোটামুটিভাবে দিন কাটছিল। এখন তাকে হারানোর পর সংসার চালাতে মুদি দোকান দিয়েছি। মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘হাসিনার লীগ বাহিনী হামার ছেলেকে কুপিয়ে খুন ক...

সন্তান নিয়ে অন্তহীন ভোগান্তিতে মনিরের স্ত্রী

Image
  সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার তিন মাস আগেই ঘাতকের গুলিতে শহীদ হন মাদারীপুরের মনিরুজ্জামান মনির। এর পরের গল্পটা আরো করুণ। স্বামীর মৃত্যুর পর অপবাদ দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ছামিরা ইসলামকে। পরে এক আত্মীয়র বাসায় সন্তান জন্ম দেন তিনি। কেউই তাদের খোঁজ-খবর, ভরণ-পোষণ না দেওয়ায় সন্তান নিয়ে অন্তহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন বিধবা ছামিরা ইসলাম। জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে নিজের মোটরসাইকেলে বন্ধু আলমকে নিয়ে ঢাকায় যান মনির। দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গেলে আন্দোলনকারীদের লক্ষ করে নির্বিচারে গুলি করে পুলিশ। এ সময় মনিরের বুকে ও পেটে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। শহীদ মনিরের স্ত্রী ছামিরা ইসলাম বলেন, সন্তান নিয়ে মাদারীপুর পৌর শহরের আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকি। আন্দোলনে মনির মারা যাওয়ার কিছুদিন পর তার পরিবার থেকে অপবাদ দিয়ে বের করে দেওয়া হয় আমাকে। তখন আমি সন্তানসম্ভবা। পরে এক আত্মীয়র বাসায় আশ্রয় নিই। সেখানে আমার ছেলেসন্তা...

জুলাই আন্দোলনে আহত হাফেজ হাসান মারা গেছেন

Image
  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত কোরআনের হাফেজ মোহাম্মদ হাসান (২৩) মারা গেছেন। থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম এতথ্য নিশ্চিত করেন। শনিবার সাদিক কায়েম পোস্টে তিনি লিখেন, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধা, আহত বীর ও পবিত্র কুরআনুল কারিমের হাফেজ হাসান চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় শাহাদাৎ বরণ করেছেন। শনিবার (২৪ মে) রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। হাফেজে কুরআন এই মহান শহীদের জানাজায় শরিক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’ এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত সহকারী ডা. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসানের মৃত্যু হয়। তার মরদেহ শনিবার সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আনা হবে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

মানবেতর জীবন যাপন আমিরের স্ত্রী-সন্তানের

Image
  ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল ছিল পুরো দেশ। বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ক্ষুধার তারণায় বসে থাকতে পারেননি রিকশাচালক আমির হোসেন তালুকদার। রাজধানীর রামপুরা এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বের হয়েছিলেন রুটিরুজির খোঁজে। স্ত্রী-সন্তানের জন্য রোজগার করে ঘরে ফেরার কথা থাকলেও তা আর হয়নি, গুলি করে তার ক্ষুধা চিরতরে মিটিয়ে দিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে দেশের যে কয়েকটি স্থান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল তার অন্যতম ছিল রামপুরা। সেখানে ছাত্র-জনতার কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ১৯ জুলাই পেটের দায়ে সেই রণক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন বরগুনার তালতলীর মৌপাড়া গ্রামের মৃত্যু আলতাফ তালুকদারের ছেলে আমির। দিনটি শুক্রবার হওয়ায় দুপুরে টিভি সেন্টার এলাকায় রাস্তার পাশে রিকশা রেখে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে রিকশা নিয়ে আবার রাস্তায় উঠতেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। লুটিয়ে পড়েন সড়কে। ঘটনাস্থলেই তিনি ...

আ. লীগ সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান সাইদুল

Image
  জুলাই বিপ্লবে ফেনীতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন সাইদুল ইসলাম শাহী। সন্ত্রাসীদের তিনটি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় শহীদ সাইদুলের শরীর। অন্য একটি গুলি এসে লাগে কানের নিচে। গত বছরের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত হন সাইদুল। ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন সাইদুল। রফিকুল ইসলাম ও রেহানা বেগম দম্পতির ছেলে সাইদুলের বয়স ছিল ২১ বছর। পরিবারের তিন ছেলের মধ্যে সাইদুল দ্বিতীয়। বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। ‘বড় ডাক্তার হয়ে’ মানুষের সেবা করবেন তিনি। কিন্তু বাবার সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই ফ্যাসিবাদের বুলেটে শহীদ হন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে মহিপাল সার্কিট হাউস রোডে পড়ে থাকে সাইদুলের নিথর দেহ। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শহীদ হন সাইদুল। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সে দিন আন্দোলনে যাওয়ার সময় মায়ের কাছ থেকে ২৫ টাকা নিয়ে ফেনীতে আসেন সাইদুল। আসার সময় মাকে বলেন, ‘এবার শেখ হাসিনা সরকারের পতন না হলে আর কখনোই ...

সাহায্য-সহযোগিতায় চলছে শহীদ হাসানের সংসার

Image
  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দিনগুলোতেও পেশাগত দায়িত্ব জারি রাখেন সাংবাদিক হাসান মেহেদী। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। সেখানে হঠাৎ পুলিশের ছররা ‍গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার শরীর। আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। স্বল্পবেতনে কাজ করা হাসানের মৃত্যুর পর থমকে যায় তার সংসারের চাকা। অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় দুই মেয়ের জীবন। সাহায্য-সহযোগিতায় কোনোরকমে দিনাতিপাত করছে তার রেখে যাওয়া পরিবারের সদস্যরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম দিকে গত ১৮ জুলাই প্রাণ হারান ৩১ বছর বয়সে পা দেওয়া সাংবাদিক হাসান। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা টাইমসের সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন। তার বড় মেয়ে মায়মুনা বিনতে নিশার বয়স সাড়ে চার বছর। ছোট মেয়ে মেহের আশবিন আনিসার বয়স ১৬ মাস। হাসান যখন দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন, তখন আনিসা আধো আধো বুলিতে ‘বা বা বা’ বলছিল। এখন সে স্পষ্ট ভাষায় বাবা ডাকতে পারলেও তা শোনার জন্য উপস্থিত নেই জন্মদাতা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হাসানের। শৈশব থেকেই সাংবাদিকতার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই শ...

শরীরে শত শত ছররা গুলি নিয়ে ধুঁকছেন হাফেজ সালেহ

Image
  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণের পাশাপাশি হামলা চালায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীরা। প্রাণহানি ঘটেছে বহু ছাত্র-জনতার। সেই রণক্ষেত্রে সামনের সারির যোদ্ধা ছিলেন হাফেজ সালেহ আহমদ। গত বছরের ১৮ জুলাই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ভয়ে ১৭ দিন বিনাচিকিৎসায় কাটিয়েছেন তিনি। পরে চিকিৎসা জুটলেও ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। বের করা যায়নি সব গুলি। হাসপাতালে দৌড়ে ইতোমধ্যে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন, শেষ সম্বল বিক্রি করে। এখন তিনি নিঃস্ব, দিন কাটাচ্ছেন অনাহারে-অর্ধাহারে। জানা গেছে, সালেহ আহমদ মৌলভীবাজারের রাজনগরের পাঁচগাঁও ইউনিয়নের রক্তা গ্রামের মৃত আবদুস ছামাদ আলমগীরের ছেলে। গ্রামের মাদরাসায় পবিত্র কোরআনে হাফেজ হওয়ার পর অর্থাভাবে তিনি স্থানীয় কোনো মাদরাসায় ভর্তি হতে না পেরে ঢাকায় চলে যান। যাত্রাবাড়ী এলাকায় টিউশনি ও ছোট একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিজের পড়ালেখার খরচ জোগার করছিলেন। এরই মধ্যে চলে আসে ছাত্র-জনতার অধিকার আদায়ের আন্দোলন। তিনি জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে অংশ নেন বিক্ষোভ মিছিলে। নিয়মিত কর্মসূচিতে যাওয়ার কারণে হারাত...

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ জুয়েলের বাবা-মা

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত বছরের ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত হন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের যুবক জুয়েল রানা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এ কারণে তাকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা এখন দিশাহারা। শোকে মুহ্যমান অসহায় বাবা-মা ও স্ত্রী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনের শেষ দিনে গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের শাখাহাতী গ্রামের জুয়েল রানা (৩২)। মমতাজুর রহমান ব্যাপারী ও জমেলা বেগমের একমাত্র ছেলে জুয়েল। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান জুয়েল পেশায় ছিলেন পোশাকশ্রমিক। তার উপার্জনেই চলত পরিবারটি। মা-বাবা, স্ত্রী ও অবুঝ দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভুত্থানে যোগ দেন প্রতিবাদী যুবক জুয়েল রানা। আন্দোলনের শেষ দিনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার পতনের খবরে আনন্দ মিছিল বের করেন ছাত্র-জানতা। মিছিলে অংশ নিয়ে গাজীপুরে আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সহকর্মীরা। ওই দিন হা...