সুস্থ হতে আরো বহুদিন লাগবে মুরাদের

 


গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ ঈশ্বরদীর মুরাদ হোসেন সুস্থ হয়ে উঠতে এখনো লড়াই করে যাচ্ছেন। এই যুবক থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ভেজথানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মুখে হালকা শব্দ ফুটলেও শরীরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হবে আরো দীর্ঘ সময়। চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিকভাবে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে হলে অন্তত এক বছর সময় লাগবে।

জানা গেছে, গত বছরের ১৮ জুলাই ঢাকায় আন্দোলনের সময় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন মুরাদ। তিনি তখন রাজধানীর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মুরাদকে ভর্তি করা হয় ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের আইসিইউতে। গলা ও স্পাইনাল কর্ডে গুলিবিদ্ধ হয়ে টানা চার মাস অচেতন ছিলেন। পরে তাকে পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই শরীর থেকে বের করা হয় দুটি গুলি। এরপর থেকেই তার শরীর প্যারালাইজড হয়ে পড়ে।

মুরাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে ব্যাংককের ভেজথানি হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, এখন মুরাদ কাশি দিয়ে নিজে নিজেই কফ বের করতে পারছেন। খাবার খেতে পারছেন নার্সদের সহায়তায়। তার মুখে হালকা কথা ফুটছে। প্রতিদিনই অল্প অল্প করে উন্নতি হচ্ছে।

মুরাদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মি. পাট্টারা ক্রোসান্ট জানান, তার স্পাইনাল কর্ডে জটিল সমস্যা রয়েছে। তা পুরোপুরি সেরে উঠতে ছয় থেকে আট মাস লাগবে। এরপর ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেতে আরো সময় লাগবে। তবে চিকিৎসায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

মুরাদের বাবা আমিনুল ইসলাম ছেলের পাশে আছেন ব্যাংককে। তিনি জানান, চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আশা করছি মুরাদ একদিন আবার নিজের পায়ে হাঁটবে। দেশবাসীর কাছে আমি আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই।

ঘটনার সময় মুরাদের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, মুরাদের চিকিৎসার বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। পরে সরকারিভাবে গত ২০ নভেম্বর মুরাদকে ব্যাংককে পাঠানো হয়।

নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, মুরাদের শরীর থেকে গুলি বের করার পর স্পাইনাল কর্ড নষ্ট হয়ে শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায়। দ্রুত থাইল্যান্ডে না পাঠানো হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত।

মুরাদের স্ত্রী মহুয়া মার্জিয়া রানী বলেন, সংসার চালানো এবং দুই সন্তানের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়া এখন আমার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবুও আশায় বুক বেঁধে আছিÑ মুরাদ যদি প্রাণে বেঁচে সুস্থ হয়ে ফিরে আসে।

Comments

Popular posts from this blog

হে‌লিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে শহীদ হন রা‌কি‌বু‌ল

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ জুয়েলের বাবা-মা

একমাত্র উপার্জনকারী সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার