Posts

Showing posts from October, 2024

‘হাসপাতালে দেখি, স্ট্রেচারের ওপর বুক ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া ছেলের লাশ’

Image
  ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বেলা পৌনে তিনটার কথা। ভাত খেতে বসেছিলেন ইমন। বাবা বসে ছিলেন তাঁর পাশেই। দুই নলা ভাত মুখে দেওয়ার পরই মুঠোফোনে একটা কল আসে, এক গ্লাস পানি খেয়ে খাবার ফেলেই উঠে যান ইমন। ‘কই যাছ রে বাবা’—মায়ের এমন প্রশ্নে ইমনের জবাব ছিল, ‘খেলাত যাই।’ এভাবে খাবার ফেলে না উঠতে বাবা ধমক দেন তাঁকে। দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে পড়ে থাকার খবর পায় পরিবার। নরসিংদীতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে প্রথম যে দুজন নিহত হন, তাঁদের মধ্যে মো. ইমন মিয়া (২২) একজন। পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের দড়িচর এলাকার বর্গাচাষি কাইয়ুম মিয়া ও মর্জিনা বেগম দম্পতির ছেলে তিনি। নরসিংদী আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ইমন।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইমনদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা মর্জিনা বেগম অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। পরিবারের সদস্যরা বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমনের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে মর্জিনা বেগম শয্যাশায়ী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইমন সবার ছোট। ৫ শতাংশ বসতবাড়ির ভিটা ছাড়া পরিবারটির আর কিছু নেই। অভাবের কারণে পড়াশোনা ...

‘নিথর দেহটি আমার কলিজার টুকরার’

Image
  ‘আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো, ওখান (ঢাকার দনিয়া এলাকা) দিয়েই অটোগাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন স্থানীয় কয়েকজন আমাকে ডাক দেয় সড়কের ওপর পড়ে থাকা এক কিশোরকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। আর গিয়ে যখন দেখি নিথর দেহটি আমার কলিজার টুকরার (ছেলে), তখনকার মনের অবস্থা কাউকে বলে বোঝাতে পারব না।’ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নিজের ছেলে মো. আমিনের (১৬) গুলিবিদ্ধ লাশ খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি এভাবে জানাচ্ছিলেন বাবা ওবায়দুল হক খান। রাজধানী ঢাকার দনিয়া এলাকায় ২১ জুলাই সন্ধ্যায় ওই ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, ওই সময় নাশতা করার জন্য বাইরে বের হয়েছিল কিশোর আমিন। আমিনের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে। তবে কাজের সুবাদে স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঢাকার দনিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন ওবায়দুল হক। ভাড়ায় অটোরিকশা চালাতেন তিনি। আর অভাবের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে শৈশবেই একটি বৈদ্যুতিক সুইচ নির্মাণ কারখানায় শ্রমিকের কাজ নিয়েছিল আমিন। পড়াশোনা বলতে প্রাথমিকের গণ্ডিও পার করা হয়নি তার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিহত আমিনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এসব...

‘ছেলে হত্যার মামলা কার বিরুদ্ধে করব, বিচার চাইব কার কাছে’

Image
  পরনে নেভি ব্লু টি-শার্ট আর কালো হাফপ্যান্ট। পুরো মাথায় ব্যান্ডেজ। চার ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার শরীরে আর কোথাও ছিল না আঘাতের চিহ্ন। এসব তথ্য রাকিব হাসানের সুরতহাল প্রতিবেদনের। আর তাকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তির সময় যে টিকিট কাটা হয়েছিল, তাতে লেখা ‘হেড ইনজুরি’ বা ‘মাথায় আঘাত’। পাশে বন্ধনীর ভেতরে লেখা ‘গ্রেনেড ব্লাস্ট’ বা গ্রেনেড বিস্ফোরণ। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ চলাকালে ১৯ জুলাই নিহত হয় ১২ বছরের রাকিব হাসান। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আইটিজেড স্কুল অ্যান্ড কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত সে। বাবা আবুল খায়ের ও স্নাতকপড়ুয়া বড় ভাই আবু রায়হানের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে এক রুমের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। আবুল খায়ের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চল ৫-এ বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় আবুল খায়েরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলে কীভাবে মারা গেছে নিশ্চিত নন। প্রতিদিন বিকেলে বাসার কাছের মাঠে ফুটবল খেলতে যেত রাকিব। সেদিনও সে খেলার জার্সি গায়ে দিয়ে বাইরে গিয়েছিল। হয়তো খেলতেই বের হয়েছিল। ১২ বছর বয়সী ছেলে...

ছেলের লাশেও গুলি লাগে, বললেন বাবা

Image
  ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল! নরসিংদী শহরের জেলখানার মোড়! কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছে। চলছে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলি। রাবার বুলেটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় নবম শ্রেণিপড়ুয়া তাহমিদ ভূঁইয়া তামিম (১৫)। তার লাশ স্ট্রেচারে রেখে স্লোগান দিচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সে সময় আবার গুলি চালায় পুলিশ। সেই গুলি তাহমিদের লাশেও লাগে।  প্রায় ১০০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে তাহমিদের বাবা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া   অসহায়ের মতো সে দৃশ্য দেখেছেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া একাধিক শিক্ষার্থীও  প্রথম আলো র এই প্রতিনিধির কাছে লাশের গায়ে আবার গুলি লাগার একই বর্ণনা দিয়েছেন। নিহত তাহমিদ নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের শিক্ষার্থী ছিল। পল্লিচিকিৎসক বাবা ও গৃহিণী মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিল তাহমিদ। ১৩ ও ৩ বছর বয়সী দুটি বোন রয়েছে তাহমিদের। তাহমিদদের বাড়ি ঘটনাস্থল (জেলাখানার মোড়) থেকে ৩০০ গজ দূরে, সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামে। গত মঙ্গলবার তাহমিদদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে একটি স্ট্রেচ...

জানালায় দাঁড়াতেই গুলি এসে কেড়ে নিল শিশুটিকে

Image
  জানালার পাশেই সামিরের পড়ার টেবিল। পড়ার বই, প্লাস্টিকের খেলনা, ঘরের মেঝেতে এখনো ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। গত শুক্রবার জানালা দিয়ে আসা একটি বুলেট সামিরের চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার খুলি ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ১১ বছরের সাফকাত সামির। ওই দিন (১৯ জুলাই) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে মিরপুরে কাফরুল থানার সামনের সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়া ঢুকছিল সামিরের ঘরে। জানালা বন্ধ করতে গেলে বাইরে থেকে গুলি এসে বিদ্ধ করে শিশুটিকে। গুলিটি তার চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘরে ছিল তার চাচা মশিউর রহমান (১৭)। তার কাঁধেও গুলি লাগে। গতকাল মঙ্গলবার সামিরদের বাসায় গিয়ে নির্মম মৃত্যুর চিহ্ন দেখা যায়। নানাবাড়ি আশুলিয়ায় একমাত্র সন্তানকে দাফন করে মা ফারিয়া ইবনাত (২৮) সেখানেই রয়ে গেছেন। বাবা সাকিবুর রহমান (৩৪) মিরপুরের ছোট্ট বাসাটিতে ফিরে এসে সন্তানের স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছোট চাকরি করেন। শিশু সামির একটি মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। সাকিবুর রহমানের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন...

‘একটি গুলিতে সব স্বপ্ন শেষ’

Image
  পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া (২২)। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাতেই তাঁর লাশ নিয়ে পটুয়াখালীর নিজ বাড়িতে যান মা–বাবা। হৃদয় চন্দ্র পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের রতন চন্দ্র তরুয়া ও অর্চনা রানীর ছেলে।   দুই ভাই–বোনের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন। পড়তেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে। মির্জাগঞ্জে গ্রামের বাড়ি হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর রতন চন্দ্র তরুয়া  প্রথম আলো কে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে হৃদয় লেখাপড়া করছিল। অনেক স্বপ্ন দেখেছি তাকে নিয়ে। লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করে দরিদ্র বাবার সংসারের হাল ধরবে—কত স্বপ্ন ছিল। একটি গুলিতে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।’ পেশায় কাঠমিস্ত্রি রতন চন্দ্র তরুয়া প্রতিদিনই কাজের সন্ধানে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ঘোরেন। কাঠমিস্ত্রির আয় দিয়ে ক...

বারান্দায় দাঁড়ানো আহাদের ডান চোখে লাগে গুলি

Image
  এক পাশে বাবা, আরেক পাশে মা, মাঝে দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট আবদুল আহাদ (৪)। বাসার বারান্দায় দাঁড়ানো তিন জোড়া চোখ নিচের দিকে তাকিয়ে। বাসার নিচে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলছে। আচমকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে আহাদ। বাবা ভেবেছিলেন ছেলে মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। ছেলেকে ধরে তুলতে গিয়ে বুকের রক্ত হিম হয়ে যায় আবুল হাসানের। ছেলেটার চোখ, মুখ, মাথা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। গুলিটা ডান চোখে বিদ্ধ হয়ে মাথার ভেতরেই আটকে গেছে। গত শুক্রবার ১৯ জুলাই বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ১১ তলা বাড়িটির আটতলায় থাকেন আবুল হাসান, তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার, বড় ছেলে দিহান মাতুব্বর (১১) ও ছোট ছেলে আহাদ। আয়কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী আবুল হাসানের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়ে আমার ছেলে চলে গেল। এ নিয়ে আমি আর কী বলব! চেয়েছিলাম পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) না করতে। অতটুকু শরীর যাতে আর কাটাছেঁড়া করা না হয়। কিন্তু আমাদের সে চেষ্টাও সফল হয়নি। বাবা আবুল হাসান রক্তাক্ত ছেলেকে কোলে নিয়ে দ্রুত নিচে নে...

বাসার ছাদে বাবার কোলে ঢলে পড়ে ছোট্ট মেয়েটি

Image
  দুপুরে খাওয়ার পর ছাদে খেলতে গিয়েছিল মেয়েটি। খানিক পরেই রাস্তায় সংঘর্ষ বাধে। বাসার সামনে হইহল্লা শুনে বাবা ছুটে যান ছাদ থেকে মেয়েকে ঘরে আনতে। মেয়েকে কোলে নিতেই একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয় মাথায়। মুহূর্তেই ছোট্ট দেহটি ঢলে পড়ে বাবার কোলে। রক্তে ভেজা মেয়েকে নিয়ে তখনই বাবা ছোটেন হাসপাতালে। বাসার কাছের ক্লিনিকে চিকিৎসকেরা বেশিক্ষণ রাখলেন না। পাঠিয়ে দিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সে রাতেই মাথায় অস্ত্রোপচার হয়। সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন চিকিৎসকেরা। মেয়েটিকে রাখা হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। বলা হয়, ৭২ ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাবে না। গত শুক্রবার বিকেলে গুলি লাগে মেয়েটির। সেদিন রাতে অস্ত্রোপচারের পর শনিবার পার হয়। রোববার ও সোমবার আইসিইউতে একটু একটু করে আঙুল নাড়ছিল মেয়েটি। স্বজনদের বুকে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু গতকাল বুধবার সকালের দিকে মেয়েটির সে নড়াচড়াও থেমে যায়। সবাইকে কাঁদিয়ে মেয়েটি চলে যায় না-ফেরার দেশে। আমার ছোট মারে, তুই আমাদের ছেড়ে চলে গেলি! তোরে ছাড়া আমরা কেমনে বাঁচব?’ রিয়ার ছোট খালা সাড়ে ছয় বছর বয়সী মেয়েটির নাম রিয়া গোপ। মা-বাবার সঙ্গে থাকত নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়াম...

মা একটু পরপর ছেলের বুকের কাছে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলেন, নিশ্বাস নিচ্ছে কি না

Image
  মাত্র সাত বছরে পা দিয়েছে বাসিত খান মুসা। হাসি মুখে দৌড়ে গিয়ে মা নিশামনিকে বলেছিল, ‘মাম্মি, বাইরে গুলির শব্দ।’ বাইরে গিয়ে গোলাগুলি দেখবে কি না তাও জানতে চেয়েছিল। মা ছেলেকে বাইরে যেতে ‘না’ করেছিলেন বলে ‘মাম্মি পচা’ বলে কপট রাগও দেখিয়েছিল। তারপর একসময় বাইরের পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত হয়ে এলে ছয় তলার বাসা থেকে মুসা তার দাদি মায়া ইসলামকে (৬০) নিয়ে নিচে নেমেছিল আইসক্রিম কেনার জন্য। তারপর বাইরে থেকে আসা এক গুলি মুসার মাথায় লেগে তা বের হয়ে পেছনে থাকা দাদির তলপেটে ঢুকে যায়। এ ঘটনা ১৯ জুলাই বেলা ৩টার দিকে ঘটে রাজধানীর রামপুরা থানার সামনে মেরাদিয়া হাট এলাকায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সেদিন ওই এলাকায় চলছিল সংঘর্ষ-গোলাগুলি। ওই সংঘর্ষে চলা গুলিতে প্রাণ গেছে মুসার দাদি মায়া ইসলামের। আর মুসার ঠিকানা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। গুলি লাগার পরপরই মুসাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে। দুই দিন পর পাঠানো হয় ওয়ার্ডে। তবে আজ শনিবার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে বেলা আড়াইটার দিকে আবার আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। মুসার জ্ঞা...

১০ বছর বয়সী হোসেনের ‘তলপেট ছেদ করে’ বেরিয়ে যায় গুলি

Image
  ২০ জুলাই দুপুরবেলা রাজধানীর চিটাগাং রোড এলাকায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষ চলছিল। পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছিল পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ ও ককটেল বিস্ফোরণ চলছে। দুপুরে ভাত খেয়ে বাসা থেকে বের হয় ছোট্ট হোসেন মিয়া (১০)। পপকর্ন, আইসক্রিম ও চকলেট ফেরি করে সে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর থেকে খোঁজ নেই হোসেনের। বাবা মানিক মিয়া সন্তানের খোঁজে বের হন। কোথাও নেই। সংঘর্ষের কারণে অন্তত দুই ঘণ্টার উল্টো পথে এসে দেখেন, তাঁর ছেলে এখনো বাসায় ফেরেনি। বাসায় ছোট্ট দুই মেয়েকে তালাবন্দী করে মানিক মিয়া স্ত্রী মালেকা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানের খোঁজে বের হন। চিটাগাং রোডসহ আশপাশের এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও হদিস মেলেনি হোসেনের। এরপর রাত নয়টার দিকে কেউ একজন এসে মুঠোফোনে হোসেনের ছবি দেখান। মানিক ও মালেকা সন্তানের আহত অবস্থার ছবি দেখে চিনতে পারেন। তাঁরা জানতে পারেন, হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর দেরি না করে স্বামী-স্ত্রী একটি পিকআপে করে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত যান। সেখান গিয়ে আরও বিপদ। সড়কে কোনো গাড়ি নেই। কিছু সময় হেঁটে, কিছু সময় জিরিয়ে নিয়ে এগিয়ে চলেন। পথে পথে সংঘর্ষ। পরে এক রিকশ...

‘আন্দোলন আমার বুকের ধন কেড়ে নিল’

Image
  ‘১৮ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার মিরপুরে ১০ নম্বরের গোলচত্বরের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় সে (শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন)। ডান চোখের পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে তার মস্তিষ্ক ছেদ হয়ে যায়। তখন আমি গ্রামের বাড়িতে। ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পৌঁছাতে রাত প্রায় একটা বেজে যায়। পথে পথে অনেক বাধা পেরিয়ে ছেলের কাছে গেলেও তাকে জীবিত ফেরাতে পারিনি।’ একটানা কথাগুলো বলেই শিশুর মতো কাঁদতে শুরু করেন শাহরিয়ারের বাবা মোহাম্মদ আবদুল মতিন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শাহরিয়ারের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমড়াশাসন উত্তরপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শাহরিয়ারের বাবাকে সান্ত্বনা দিতে এসেছেন কয়েকজন বন্ধু। সেখানে বাড়ির আঙিনায় কথা হয় আবদুল মতিনের সঙ্গে। আবদুল মতিন বলেন, ‘লাইফ সাপোর্টে থাকা ছেলেকে গত শনিবার বেলা দুইটার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে শাহবাগ থানায় জিডি করি। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার রাত সাড়ে ১২টায় বাড়িতে আনা হয় মরদেহ। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় বাড়ির সামনের গোরস্থানে।’ একটু থেমে মতিন আবার বলতে শুরু করলেন, ‘ছোট একটা গুলি আমার ছেলেটারে শেষ করে দিল! ছেলে হত্যার বিচার চাই। কিন্তু ক...

স্ত্রীর ওষুধ কিনতে বাইরে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ইমরান

Image
  সেই দিন অফিসে যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৮টায়। কিন্তু স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে অফিসে দায়িত্ব পালনের সময় পরিবর্তন করে নিয়েছিলেন সন্ধ্যা ৭টায়। অফিস যাওয়ার আগে বাইরের পরিস্থিতি দেখতে ও স্ত্রীর ওষুধ কিনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। তাঁর নাম ইমরান খলিফা (৩৩)। তিনি গুলশান-২-এর চারুলতা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কালনা গ্রামে। শুক্রবার সকালে ইমরান খলিফার বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় নিহত ইমরানের বাবা নজরুল ইসলাম (৬৮) ও মা সেলিনা আক্তার (৫০)। স্বজনদের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। ইমরানের স্ত্রী শান্তা ((২২) বলেন, ‘ঘটনার দিন শুক্রবার (১৯ জুলাই) ইমরানের অফিসে ডিউটি ছিল সকাল ৮টায়; কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার কারণে আগের দিন রাতে অফিসের বড় স্যাররে ফোন দিয়ে সময় পরিবর্তন করে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ডিউটি করার অনুমতি নেয়। শুক্রবার দুপুরে অফিস থেকে একজন (স্যারে) ফোন দিয়ে ইমরানকে বলেন, “যদি পরিস্থিতি ভালো থাকে, তাহলে অফিসে এসো, আর যদি পরিস্থিতি খারাপ থাকে, তাহলে অফিসে আসার দরকার নাই।” বিকেল সাড়ে ৫টার...