Posts

Showing posts from June, 2025

আন্দোলনে গিয়া পুলিশের গুলিতে মইরা গেল

Image
  ‘প্রতিবার ঈদ আইলে আমার ছেলেডা ঢাকা থেইকা বাড়ি আসত। আমাগো সবার জন্য কাপড়চোপড় আনত। মায়ের হাতের সেমাই-খিচুড়ি খাইতে খুব পছন্দ ওর। আন্দোলনে গিয়া পুলিশের গুলিতে মইরা গেল সে। তাঁর লাশটা এহনো খুঁইজা পাইলাম না। হুনছি, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন অইছে। তাঁর মরণের পর আমাগো সব শেষ। ছেলে নাই, এহন আমাগো ঈদ-চাঁনও নাই।’ কান্নাভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সবুজ ব্যাপারী। তিনি গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত পারভেজের (২৩) বাবা। গত জুলাইয়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন পারভেজ (২৩)। আজ শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে এসব কষ্ট ও হতাশার কথা জানান সবুজ ব্যাপারী। পারভেজের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের বারহাতিয়া গ্রামে। তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একটি আসবাবের দোকানে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সুবাদে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পারভেজ বড়। সবুজ ব্যাপারী আগে লঞ্চে শ্রমিকের কাজ করতেন। এখন গ্রামে ছোট্ট চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। গত বছরের ১৯ জুলাই দুপুরে পারভেজের এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যেরা জানত...

মাসরুরের মৃত্যুতে পথে বসে গেছে পরিবার

Image
  সংসারের চাকায় গতি আনতে বিদেশ গিয়েছিলেন মাষহারুল ইসলাম মাসরুর। সেখানে মন টেকাতে না পেরে দুই বছরের মাথায় ফেরেন গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের পাটোয়ারী হাটের বোয়ালীয়া এলাকায়। জীবন সংগ্রাম জারি রাখতে শুরু করেন পোলট্রি খামার। এতেও লোকসান হয়। অবশেষে কাজ নেন গাজীপুরে শ্বশুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। সেখানে থাকাবস্থায় শুরু হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন। ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজপথে। সামনের সারিতে থেকে লড়তে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি।সংসারের চাকায় গতি আনতে বিদেশ গিয়েছিলেন মাষহারুল ইসলাম মাসরুর। সেখানে মন টেকাতে না পেরে দুই বছরের মাথায় ফেরেন গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের পাটোয়ারী হাটের বোয়ালীয়া এলাকায়। জীবন সংগ্রাম জারি রাখতে শুরু করেন পোলট্রি খামার। এতেও লোকসান হয়। অবশেষে কাজ নেন গাজীপুরে শ্বশুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। সেখানে থাকাবস্থায় শুরু হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন। ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজপথে। সামনের সারিতে থেকে লড়তে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি।মাসরুরের স্ত্রী ছালমা বলেন, ফুটফুটে শিশু সন্তানকে দেখে যেতে পারেননি মাসরুর। পরিবারে তিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। একজনের...

গুলি করার পর মাসুদকে হাসপাতালে নিতে বাধা

Image
  স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গত বছরের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন সরওয়ার জাহান মাসুদ। সেখানেই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে ছোট ভাই মাসুম আল সামীর। কিন্তু আওয়ামী ক্যাডাররা তাকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়। মৃত্যুর পর লাশ রাতেই দাফন করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।জানা গেছে, সেদিন আওয়ামী ক্যাডারদের ছোড়া গুলি ফেনী কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদের বুকে দুটি এবং একটি হাতে লাগে। গুলিবিদ্ধ এ তরুণকে পরে স্থানীয় সার্কিট হাউস সড়ক থেকে উদ্ধার করে তারই ছোট ভাই মাসুম। মাসুম জানায়, আমার ভাই বেঁচেছিল, সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারলে প্রাণে বেঁচে যেত। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পথে গাড়ি থামিয়ে আমাদের বাধা দিয়েছিল। ওই দলের নেতৃত্ব দেয় দাগনভূঞা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাতুভূঞা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল মামুন। ওই সন্ত্রাসী আমার ভাইকে বলেছিলÑসে তো রাজাকার, রাজাকার মরলে কিছু হয় না। মাসুম আরো বলে, সেদিন ভাইয়া আমার আগে আন্দোলনে অংশ নিতে মহিপালে যায়। আমি পরে গিয়ে ত...

শরীরে ৩৮ স্প্লিন্টারের যন্ত্রণায় কাতর অমিত

Image
  জুলাই বিপ্লবের অকুতোভয় সৈনিক অমিত হাসান। গত বছরের ৫ আগস্ট এক দফার আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন এই জুলাই-যোদ্ধা। তার শরীরে এখনো রয়েছে ৩৮টি স্প্লিন্টার, যার মধ্যে মাথায় রয়েছে ২২টি। এগুলো নিয়েই বিনা চিকিৎসায় যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার। তার সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন তার পরিবার। জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর শহরের গোপালপুর গ্রামের নুহু শেখের ছেলে অমিত হাসান। দরিদ্র ঘরের এই সন্তানের বেড় ওঠার গল্প খুবই করুণ। অর্থাৎ পিছুটান তার ছিল। কিন্তু এই পিছুটান উপেক্ষা করে ৫ আগস্ট তিনি মহেশপুরের শাপলা চত্বরে যোগ দেন হাসিনার পতনের আন্দোলনে। সেদিন পুলিশের ছোড়া গুলির ৩৮টি স্প্লিন্টার অমিতের শরীরে বিঁধে। তার মধ্যে মাথায় রয়েছে ২২টি স্প্লিন্টার। এর তিনটি স্প্লিন্টার মাথার গভীরে ঢুকে আছে।অমিত আমার দেশকে বলেন, ওই দিন শাপলা চত্বরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। স্লোগান চলতে থাকে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের দাবি নিয়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এগিয়ে গেলে তারাও সামনের দিকে এগোতে থাকে। এ সময় তাদের দিকে গুলি চালায় পুলিশ। গুল...

পুলিশের গুলিতে অকেজো সাগরের বাম হাত

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট সকালের নাশতা খেতে বের হন রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলের কর্মী সাগর হাওলাদার। পরে তিনি ছাত্র-জনতার মিছিলে যুক্ত হন। এক পর্যায়ে তিনি মিছিলের সামনের দিকে চলে যান। মিছিল মিরপুর-২ মডেল থানার সামনে এলে থানার ছাদ থেকে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার পরও বাম হাত তার অবশ হয়ে গেছে। কোনো কাজ করতে পারছেন না। ফলে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবার।জানা যায়, সাগর পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের রিকশাচালক আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। অভাব অনটনে পড়ে সংসারের প্রয়োজনে চাকরি নেন ঢাকার মিরপুরের সিঙ্গাপুর আবাসিক হোটেলে। হোটেল থেকে ৫ আগস্ট সকালে নাশতা খেতে বের হয়ে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ইকবাল নামের এক বন্ধু তাকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর গাড়িতে স্থানীয় আলোক হাসপাতালে ভর্তি করান। টানা ৪ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর জ্ঞান ফেরে তার। পরে কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে ১৭ দিন রাখা হয়। সেখানে ১ মাস ৭ দিন চিকিৎসা শেষে স...

নিভে গেছে দুই চোখের আলো শরীরেও স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা

Image
  জীবিকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা (টমটম) নিয়ে সড়কে বের হন রাব্বি হোসেন। গত বছরের ৫ আগস্টের সেই বিকালে হঠাৎ শুনতে পায় স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদ পতনের সেই আনন্দ উদযাপন করতে শ্রীমঙ্গলের চৌমুহনা এলাকায় বিশাল মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। সেই মিছিলে অংশ নেয় ১৭ বছর বয়সি কিশোর রাব্বি। কিন্তু হঠাৎ মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। এ সময় রাব্বির চোখ ও শরীরে ৩০টি ছররা গুলি লাগে। সেই গুলি কেড়ে নেয় রাব্বির চোখের আলো আর তখন থেকেই জীবন-জীবিকার চাকাও বন্ধ তার।রাব্বি হোসেন শ্রীমঙ্গলের আশীদ্রোন ইউনিয়নের দক্ষিণ মুসলিমবাগ এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পেশায় ছিল টমটমচালক। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষে বড় চাকরি করে পরিবারের কষ্ট লাঘবের। কিন্তু সংসারের টানাপোড়েনের কারণে অষ্টম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করা হয়নি। দিনমজুর বাবার একা আয়ে পরিবার চালানো ক্রমেই কঠিন হওয়ায় ২০২২ সালে পরিবারের বড় ছেলে রাব্বি লেখাপড়ার ইতি টেনে টমটম চালানো শুরু করে। বাবা-ছেলের আয়ে পরিবারে যখন কিছুটা স্বস্তি বয়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখনই পরিবারটির ওপর নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। রাব্বি জানায়, দীর্ঘমেয়াদি ও...

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অথই সমুদ্রে জাকিরের মা

Image
  জুলাই বিপ্লবের উত্তাল সময়ে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাংরোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন জাকির হোসেন। ২১ জুলাই বিকেলে কাজে যাওয়ার সময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর ছোড়া গুলিতে শহীদ হন তিনি। পরে তার সহকর্মীরা লাশ নিয়ে আসেন রাজধানীর বাড্ডায়, জাকিরের মায়ের কাছে। পরদিন গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা হয়। শহীদ জাকির হোসেনের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার পূর্ব বাকলজোড়া গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত ফজলু মিয়া ও মিছিলি বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান তিনি। তবে সেই ‘সবেধন নীলমণি’ জাকিরকে হারিয়ে নিঃস্ব জাকিরের মা।জানতে চাইলে মিছিলি বেগম আমার দেশকে জানান, রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ঘটনার আগের দিন ওয়াসার পানির লাইন মেরামতের কাজে চিটাগাংরোড এলাকায় যান জাকির। কাজ শেষে আন্দোলন আর কারফিউয়ের কারণে বাড্ডায় মায়ের কাছে ফেরা হয়নি তার। তবে সে না ফেরাটাই যে তার অনন্তকালের জন্য চলে যাওয়া সেটা হয়তো জানতেন না মিছিলি বেগম। সরেজমিনে দেখা গেছে, জাকিরের উপার্জনে কেনা জমিতেই কবর দেওয়া হয়েছে তাকে। এর এক পাশেই একটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ঘরে থাকবেন তার মা এ...

শহীদ মাসুমের মাথায় লাগে আওয়ামী ক্যাডারদের ছোড়া গুলি

Image
  আওয়ামী ক্যাডারদের ছোড়া ৩টি গুলি লাগে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র শহীদ মাহবুবুল হাসান মাসুমের মাথায়। একটি সামনের দিকে, বাকি দুটি পেছনে। পরবর্তী সময়ে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছেলেকে হারিয়ে এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার। তারা চান, মাসুম হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। জানা যায়, আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের নিষেধ ছিল। সে সময় মাসুম ছোট ভাইবোনদের প্রায়ই বলতেন, ঘরে থেকেও শিশুরা মারা যাচ্ছে, প্রয়োজনে আমিও শহীদ হব, এ সময় ঘরে বসে থাকা অন্যায়। পরিবারের আদেশ অমান্য করে ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। এই আন্দোলনে গডফাদার নিজাম হাজারীর আওয়ামী সন্ত্রাসীবাহিনী নির্বিচারে গুলি করে। ওই সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মাসুম। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।মাসুমের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, ৪ আগস্ট ১২টার দিকে মাসুমের সঙ্গে আমার সর্বশেষ কথা হয়। তাকে বাসায় চলে যেতে বলার পর সে উত্তর দেয় নামাজ পড়ে বাসায় যাবে। নামাজের পরে তাকে ফোন দেওয়ার পর অন্য একজন রিসিভ করে। এরপর দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে একজন জানালেন মাসুম মারা গেছে, ...

জুলকার নেই, এখনো মানতে পারছেন না মা

Image
  জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হয় ১৭ বছর বয়সি জুলকার নাইন। সে ছিল ঘরের বড় ছেলে। তাকে হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা হালিমা খাতুন। এখনো খুঁজে ফিরছেন সন্তানকে। অন্যদিকে বাবা আব্দুল হাই শোকে হয়ে পড়েছেন নির্বাক। জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সাভারের বাইপাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় জুলকার নাইন। সে ছিল সাভারের পলাশবাড়ী এলাকার কে এল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়ার নন্দনপুর ইউনিয়নের স্বরূপ গ্রামে।জুলকার নাইনের মা বলেন, সে বলেছিল ন্যায়ের পক্ষে আমি যদি আবু সাঈদ ও মুগ্ধর মতো শহীদ হতে পারতাম। আল্লাহ যেন তার কথাটিই শুনেছিলেন। ৫ আগস্ট বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার ছোট ছেলে হামজাকে বলেছিল, আমি যদি আর বাসায় না ফিরি তুই মা-বাবাকে দেখিস। সে আন্দোলনের শুরু থেকেই মিছিলে যেত। আর বলত আমার লাভ না হলেও ভবিষ্যতে ছোট ভাই-বোনদের লাভ হবে। জুলকার নাইনের বাবা হোমিও চিকিৎসক আব্দুল হাই বলেন, আমার ছেলের বুকের বাম পাশে ছাদের উপর থেকে গুলি করা হয়েছিল। খবর পেয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সে মারা যায়। ছেলের লাশ নিয়ে সন্ধ...

পথে বসেছে পুলিশের গুলিতে শহীদ বিপ্লবের পরিবার

Image
  রাজধানীর মিরপুর এলাকায় থাকতেন বিপ্লব শেখ। তিনি স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। গত বছরের উত্তাল জুলাইয়ে সড়কে বহু লাশ ও তাজা রক্ত দেখেন তিনি। দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে গিয়ে জনগণের অকাতরে প্রাণ দেওয়ার ঘটনা তাকে বিপ্লবী করে তোলে। শামিল হন আন্দোলনে। ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভয়ে গোপনে তার লাশ গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লাহাটের বুড়ি গাংনী গ্রামে দাফন করে পরিবার। জানা গেছে, সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় থাকতেন বিপ্লব। তার মৃত্যুর পর এলাকায় চলে আসে পরিবার। এর চার মাস পর একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন তার স্ত্রী রিক্তা বেগম। অসচ্ছল সংসারের চাকায় গতি আনতে ঢাকায় চাকরি করতেন বিপ্লব। তার মৃত্যুর পর ঝুঁকির মধ্যে পড়ে নবাগত সন্তান ও স্ত্রীর জীবন। শিশুটি শুধু বাবার আদর থেকেই বঞ্চিত হয়নি; বরং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে তার ভবিষ্যৎ।নিহতের বাবা পারভেজ শেখ বলেন, ‘অসচ্ছল পরিবার চালানোর জন্য ছেলেকে ঢাকায় চাকরি করতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে ফিরে আসে লাশ হয়ে। দেশের জন্য জীবন দিয়ে গর্বের অংশ হয়েছে। কিন্তু পথে বসেছে দুটি পরিব...

ডান চোখের পর রকির বাম চোখও নষ্টের পথে

Image
  জীবন্ত মৃত রাকিবুল ইসলাম রকি। ডান চোখ নষ্ট। বাম চোখেও দেখেন ঝাপসা। অর্থাৎ এ চোখের আলো নিভু নিভু করছে। কবে একেবারে নিভে যায় সেই আতঙ্কেই দিন পার করছেন তিনি। হাসিনা সরকার পতনের লড়াকু এ সৈনিকের চিকিৎসা পরিবারের অর্থকষ্টে এখন বন্ধের পথে। তাই ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে দিন পার করছেন বাবা মোখলেসুর রহমান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রকি জুলাই বিপ্লবে সব সময় মিছিলের সম্মুখভাগে থাকতেন। গত বছরের ৪ আগস্ট পুলিশের গুলিতে আহত হন। দুচোখসহ ৬৫টি ছররা গুলির আঘাতে জর্জরিত সারা শরীর। অপারেশন করেও ডান চোখের গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। ডান চোখ তাই নষ্ট হয়ে গেছে। বাম চোখের আলোও নিভু নিভু করছে। শরীরেও গুলি আছে এখনো।রকির বাবা মোখলেসুর রহমান বলেন, রকিকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ঢাকায় পাঠাতে বলা হয়। ৬ আগস্ট চক্ষু হাসপাতালে অপারেশন হয়। চারদিন হাসপাতালে কাটে। এরপর আবার তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। তখন চিকিৎসক জানান, তার ডান চোখটি নষ্ট হয়েছে। বাম চোখও নষ্টের পথে। এখন প্রতি মাসে ঢাকায় যেতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। রকি আমার দেশকে বলেন, আমি সব সময় মিছিলের সম্মুখভাগে থাকতাম। পুলিশ খুব কাছ থেকে গুলি করে। আমি না...

বুলেটের ক্ষত নিয়ে বিছানায় পড়ে আছেন কামিল

Image
  গণঅভ্যুত্থানের সময় সিলেটের গোলাপগঞ্জে আন্দোলনে নেমে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে আহত হন জকিগঞ্জের কামিল আহমদ। পেশায় তিনি গাড়ি চালক। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে কাজকর্ম করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। গুলির ক্ষত আর যন্ত্রণা নিয়ে ওই যুবক বিছানায় পড়ে থাকলেও কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন না। অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় পরিবারের লোকজন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সরকারি গেজেটেও হয়নি তার স্থান। ফলে সব সুযোগ-সুবিধা থেকে রয়েছেন বঞ্চিত। দুর্ভাগা ওই জুলাই যোদ্ধা জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউপির খিলগ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিন ভাই আর দুই বোনের মধ্যে কামিল দ্বিতীয়। টানাপোড়েনের সংসারে তিনি ছিলেন অর্থের অন্যতম জোগানদাতা। খরচ জুটাতেন গাড়ি চালিয়ে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাবার বুলেটে বিদ্ধ হয়ে এখন সুচিকিৎসা ছাড়াই বাড়িতে চরম কষ্টে দিন পার করছেন।জানা গেছে, আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন গাড়ি চালক কামিল আহমদ। ৪ আগস্ট বিকেলে গোলাপগঞ্জে যান কামিল। সেখানে পৌঁছার পর দেখতে পান ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। তখন তিনিও ছাত্র-জনতার সঙ্গে লাঠি হাতে নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধে অংশ নেন। একপর্যায়ে পুলিশ ছাত্...

সন্তান নিয়ে অন্তহীন ভোগান্তিতে মনিরের স্ত্রী

Image
  সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার তিন মাস আগেই ঘাতকের গুলিতে শহীদ হন মাদারীপুরের মনিরুজ্জামান মনির। এর পরের গল্পটা আরো করুণ। স্বামীর মৃত্যুর পর অপবাদ দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ছামিরা ইসলামকে। পরে এক আত্মীয়র বাসায় সন্তান জন্ম দেন তিনি। কেউই তাদের খোঁজ-খবর, ভরণ-পোষণ না দেওয়ায় সন্তান নিয়ে অন্তহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন বিধবা ছামিরা ইসলাম। জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে নিজের মোটরসাইকেলে বন্ধু আলমকে নিয়ে ঢাকায় যান মনির। দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গেলে আন্দোলনকারীদের লক্ষ করে নির্বিচারে গুলি করে পুলিশ। এ সময় মনিরের বুকে ও পেটে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। পরদিন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় এলাকায় তাকে দাফন করা হয়।শহীদ মনিরের স্ত্রী ছামিরা ইসলাম বলেন, সন্তান নিয়ে মাদারীপুর পৌর শহরের আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকি। আন্দোলনে মনির মারা যাওয়ার কিছুদিন পর তার পরিবার থেকে অপবাদ দিয়ে বের করে দেওয়া হয় আমাকে। তখন আমি সন্তানসম্ভবা। পরে এক আত্মীয়র বাসায় আশ্রয় নিই। সেখানে আমার ছেলেসন্তান...

বুকে ব্যথা হয় গুলিবিদ্ধ কিশোর সিহানের

Image
  শিক্ষার্থী সিহানের ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। তার মধ্যে অন্যতম ছিল উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয় দশম শ্রেণি পড়ুয়া এই কিশোর। সেই আন্দোলনে সে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়। হাতে ও বুকে গুলি লাগে। হাসপাতালের বিছানায় কয়েক সপ্তাহ কাতরাতে থাকে সে। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা এই কিশোর কিছু খেতে গেলেই এখন বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। একদিকে পারিবারিক অসচ্ছলতা, অন্যদিকে একমাত্র ছেলের এ অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে তার পরিবার।জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গত ১ আগস্ট ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের ইজিবাইকচালক শরীফ মিয়ার একমাত্র ছেলে সিহান বাড়ি থেকে ছুটে যায় ঢাকায়। সিহান আমার দেশকে জানায়, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ৫ আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেয় সে। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর দ্রুত ওই জায়গা থেকে সরে আসার চেষ্টার মধ্যেই আরেকটি গুলি এসে লাগে বুকে। এরপর সে মাটিতে পড়ে যায়। সিহানে...

গুলিবিদ্ধ আরিফুলের এক পা অকেজো

Image
  আতর, তসবিহ ও টুপি বিক্রি করতেন আরিফুল ইসলাম রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায়। তার আয়েই চলত আট সদস্যের পরিবার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে গত ১৮ জুলাই ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে নামেন তিনি। প্রায় প্রতিদিন সক্রিয় থাকতেন আন্দোলনে। ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। চারটি গুলি লাগে তার বাম পায়ে। বেশ কয়েক দফা চিকিৎসার পরও সেই পা এখনো অকেজো। ফলে তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবার।জানা যায়, আরিফুল পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের নতুন শ্রীনগর গ্রামের হারুন অর রশিদ ও শামীমা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। পাঁচ বছর আগে ঢাকায় যান ২১ বছর বয়সি আরিফুল। কারফিউর মধ্যে ৪ আগস্ট বিকেলে মিরপুর ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভবনের ছাদ থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মুহূর্তেই এক শিশুসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে চারটি গুলি লাগে আরিফুলের বাঁ পায়ে। গুলিগুলো তার পায়ের ভেতর দিয়ে ছিদ্র হয়ে বের হয়ে যায়। আন্দোলনকারী ছাত্ররা তাকে পাশের ...

শিশু তামিমের শরীরে ছিল শত শত গুলি

Image
  বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গাজীপুরের রাজপথও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। গত বছরের ৪ আগস্ট ছিল আরো বিভীষিকাময়। ছাত্র-জনতার মিছিল দমাতে নির্বিচার গুলি চালায় পুলিশ। রাস্তাজুড়ে ছিল লাশের সারি। এ দৃশ্য ফেসবুকে দেখে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে সুনামগঞ্জের ছাতকের ১২ বছরের তামিম মাহমুদ। ঝাঁপিয়ে পড়ে মিছিলে, দুঃসাহসিক শিশুটি দাঁড়িয়েছিল মিছিলের সম্মুখভাগে। তার রক্তে ভেসে যায় রাজপথ।পুলিশের গুলিতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হলেও তামিম পিছু হটেনি। একাই ইট ছুড়ে জবাব দেয়। প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ তাকেই লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তার মাথায় বিদ্ধ হয় ১৭৭টি গুলি, চোখের ভেতর ঢুকে ৯টি আর সারা শরীরে বিঁধে যায় আরো শতাধিক গুলি। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রক্তাক্ত শিশুটি। জানা গেছে, তামিমের ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আর দেখতে পায় না অপর চোখে। রঙিন দুনিয়া এখন তার দৃষ্টিতে অন্ধকার। এখনো বিভীষিকার মধ্যে আছে শিশুটি। তামিম উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিগলি উত্তরচাকল গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে। শিশুটি গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তামিমের পরিবার জানায়, সেদিনের সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মানুষ নিহত ও আহত হয়। সামাজিক মাধ্যমে শহী...