Posts

Showing posts from April, 2025

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল রিতার

Image
  জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিল রিতা আক্তার। স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হয়ে দেশের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরার। ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয় এই তরুণী। ফলে তার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। রিতার বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে। তার বয়স হয়েছিল ১৭ বছর। বাবা আশরাফ আলী রিকশাচালক। মা রেহেনা বিবি গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল মেঝ। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় রিতা ছিল পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা। রিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে বাবা-মাকে সব সময় বলত, বড় হয়ে ডাক্তার হবে, পরিবারের হাল ধরবে। মেয়েকে একটু ভালোমতো পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিতে সাধ্যের সব চেষ্টা চালাতেন বাবা-মা। মা রেহেনা বিবি বাসাবাড়িতে কাজ করে আয়ের সেই টাকায় মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। রেহেনা বিবি বেদনাহত কণ্ঠে বলেন, মেয়েকে আর ফিরে পাব না জানি। কিন্তু আমার মেয়েসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত সবাই যেন শহীদি মর্যাদা পায়। তাহলে মেয়েকে হারানোর বেদনা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। গ্রামের মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করে এ বছরই ঢাকার মিরপুর দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল সে। মেয়ের লেখাপড়ার...

দুই সন্তান নিয়ে দিশাহারা শহীদ আলামিনের স্ত্রী

Image
  গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন এসি মেকানিক আলামিন। ৫ আগস্ট কারফিউ ভেঙে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানেই পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে লুটিয়ে পড়লে আন্দোলনরত কয়েকজন তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যান। আইসিইউতে ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে মৃত্যু হয় তার। শহীদ আলামিনের বয়স ছিল আনুমানিক ৩৭ বছর। তার বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুডা উপজেলার মডেরহাট পোস্ট অফিসের চরমালগাঁও গ্রামে। তার স্ত্রী সুমি আক্তার। আলামিন-সুমি দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে সিয়াম ইয়াসিনের বয়স ১৩ বছর। পড়াশোনা করে ক্লাস সেভেনে। আর ছোট ছেলে ইয়াসিরের বয়স চার বছর । ছোট্ট শিশু এখনো বোঝে না তার বাবা আর নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আলামিন। তাকে হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সুমি। কান্নারত অবস্থায় আমার দেশকে সুমি আক্তার বলেন, ৫ আগস্ট আন্দোলনে যাওয়ার পর মেরুল বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। এরপর আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আইসিইউতে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি শহীদ হন। তবে, তিনি কবে থেকে আন্দোলনে যেতেন তার কিছুই জানতাম না। এসব আন্দোলনকে আমি ভয় পাওয়ার কারণে আমাকে কিছুই জানাতে...

কাউছারের কথা শুনলেই কান্না শুরু করেন মা

Image
  ফেনীর ইকরাম হোসেন কাউছার পড়তেন ঢাকার কবি নজরুল কলেজের মাস্টার্সে। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার। তার স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হয়ে পরিবারের হাল ধরবেন। এর মধ্যে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন। শুরু থেকেই তিনি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠার পর ১৯ জুলাই ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ একদিন। সেদিন পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন কাউছার। থামে তার স্বপ্নযাত্রা। ছেলে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন তার মা রুমি আক্তার। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মানসিক ও শারীরিকভাবে। এখন ছেলের কথা শুনলেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের রাজষপুর গ্রামের মাওলানা আনোয়ার হোসেন ও রুমি আক্তার দম্পতির সন্তান কাউছার। আনোয়ার হোসেন রাজষপুর বাজারের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ও হাই স্কুলের শিক্ষক। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলা থেকে কাউছার মেধাবী, বিনয়ী ও ভদ্র হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। শালধর ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগে। ২০২৪ সালে শেষ হয় অনার্স। এরপর থে...

শাহরিয়ারকে এখনো খুঁজে বেড়ায় বোন মুমতাহিনা

Image
  শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। তার চলে যাওয়ার প্রায় ৯ মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু তার প্রিয় বোন শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিন এখনো খুঁজে বেড়ায় ভাইকে। প্রায়ই বাবার কাছে আবদার করে, ভাইকে নিয়ে আসার। শুধু সে নয় বাবা-মা-চাচারাও ভুলতে পারছেন না শাহরিয়ারকে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহরিয়ারের ডাকনাম ছিল সুহার্তো বা রাজ। তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন ও মা মমতাজ বেগম। যাদের প্রথম সন্তান ছিল সে। ২০২৪ সালে সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ফলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি তার বিশেষ মনোযোগ ছিল না। তবে শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় সে উদ্বুদ্ধ হয় এবং আন্দোলনের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ১৮ জুলাই তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে যোগ দেয় আন্দোলনে। সেদিন বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় শাহরিয়ার। একটি গুলি তার ডান চোখের পাশ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্ক ভেদ করে বের হয়ে যায়। এ সময় শাহরিয়ারের বাবা ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। বিকালে খবর প...

ছররা গুলির প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছে শুভর

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত বছরের ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হন সারোয়ার জাহান শুভ (২৪)। ১৭টি ছররা গুলির যন্ত্রণা নিয়ে সেই অবস্থায়ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে অন্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সারোয়ার জাহান শুভ ঢাকার উত্তরার ইস্ট ওয়েস্ট নার্সিং কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের সালটিয়া গ্রামে। সাইফুল ইসলাম ও জহুরা খাতুন দম্পতির ৪ ছেলের মধ্যে সবার বড় শুভ। উত্তাল জুলাইয়ের ১৮ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে উত্তরায় পুলিশের গুলিতে আহত হন শুভ। তার শরীরে লাগা ১৭টি ছররা গুলির মধ্যে ১০টি বের করা হয়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত বছরের ৩ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়। এখনো শরীরে গেঁথে থাকা বাকি গুলিগুলোর প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছে তার। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শুভ জানান, জরুরি ভিত্তিতে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। পরিবার ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, শুভর বাবা সামান্য মুদি দোকানি, মা একজন গৃহিণী। ...

পুলিশের বুলেটেই পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ

Image
  কোটা সংস্কার আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত বছরের ১৮ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি দেন শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচি সফল করতে নেত্রকোনার মদন উপজেলার মদন সরকারি কলেজ মোড়ে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানেই শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন মেহেদী হাসান নবাব। হারান এক চোখ। চিকিৎসার অভাবে হারাতে বসেছেন বাকি চোখও। পড়াশোনা শেষ করে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল পুলিশেরই বুলেটে। জানা যায়, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির সমর্থনে উপজেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১৮ জুলাই সকালে মদন সরকারি কলেজ মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। একই সঙ্গে পুলিশও ওই স্থানে অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের দিকে আসতে থাকেন। পুলিশ ডাকবাংলো মোড়ে ব্যারিকেড দেয়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙেই শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পাবলিক হলের দিকে রওনা হন। একই সময় আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। দুটি মিছিল উপজেলা খাদ্যগুদামের সামনে মুখোমুখি হলে প্রশাসন মিছিল দুটিকে ছত্রভঙ্গ করে আলাদা ...

স্নাইপারের গুলি তলপেটে আটকে যায় জুনাইদের

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত বছরের ১৮ জুলাই উত্তরার বিএনএস সেন্টারে স্নাইপারের গুলিতে গুরুতর আহত হন টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গাজী মো. জুনাইদুর রহমান। গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা জুনাইদুর। উপর্যুপরি গুলিতে প্রথমে হাতের রগ ছিঁড়ে যায়, পরে বুকের নিচে লাগে গুলি। জুলাই বিপ্লবের সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলোর বর্ণনা দিয়ে জুনাইদুর রহমান বলেন, ‘স্নাইপারের একটি গুলি আমার ডান হাত চিরে বেরিয়ে যায়। আরেকটি গুলি বুকের নিচ দিয়ে ঢুকে তলপেটে আটকে যায়। মনে হলো যেন একটি সুই শরীরের ভেতরে ঢুকে গেল; নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। গুলি লাগার স্থান দিয়ে শরীরের ভেতরে বাতাস ঢুকতে ছিল। চিকিৎসকরা তিনবার অপারেশনের পর পেটের গুলিটি খুঁজে পান।’ তিনি বলেন, ‘ডান হাতে লিখতে না পারায় লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমার ক্যারিয়ারের কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখনো সেদিনের গুলির দৃশ্য আমাকে তাড়া করে বেড়ায়।’ আন্দোলনের ঘটনা বর্ণনায় জুনাইদুর রহমান জানান, মাদরাসায় আলিম শ্রেণির বর্ষ সমাপনী পরীক্ষা চলছিল। ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুল...

নাতিকে আইসক্রিম কিনে দিতে গিয়ে শহীদ হন মায়া

Image
  জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়াহাট এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন মায়া ইসলাম। দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। বেলা ৩টার দিকে নাতি বাসিত খান মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে ছয়তলার বাসা থেকে নিচে নামেন ৫২ বছর বয়সি মায়া। কিন্তু কী নির্মম বাস্তবতা তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল তা হয়তো তারা বুঝতেই পারেননি। বাসার মূল গেট বন্ধ থাকায় গেটের ভেতরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন দাদি-নাতি। ঠিক তখনই বাইরে থেকে ছোড়া পুলিশের একটি গুলি সাত বছর বয়সি নাতি মুসার মাথায় বিদ্ধ হয়ে পেছনে থাকা মায়া ইসলামের তলপেটে ঢুকে যায়। মুসা গুরুতর আহত হলেও বেঁচে যায়, কিন্তু প্রাণ হারান মায়া ইসলাম। সেদিন রাজধানীর রামপুরা থানার সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ চলছিল। পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল। এ সময়ে নাতির আবদার রাখতেই মায়া ইসলাম বাসার নিচে নামেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ওই গুলি এসে নাতি মুসাকে আহত করে এবং দাদি মায়ার প্রাণ কেড়ে নেয়। মায়ার স্বামী মাহবুব ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও নাতির ওপর যে জুলুম হলো, তার বিচার চাই। আল্লাহর কাছে বিচার চাই। এ ঘটনার পর আমাদের সংসার এলোমেলো হ...

বুলেটে বিদ্ধ হয় নাছিমার কণ্ঠনালি

Image
  জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন নাছিমা আক্তার। ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ফেরেন নোয়াখালীর মাইজদীর মেয়ে নাছিমা। ভাতিজার শরীর ভেদ করে নাছিমার কণ্ঠনালিতে লাগে গুলি। কিন্তু ভাতিজা সুস্থ হয়ে ফিরলেও শহীদ হন নাছিমা। চব্বিশের উত্তাল জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সায়েন্সল্যাব মোড় প্রতিদিনই ছিল উত্তপ্ত। ধানমন্ডিতে আন্দোলনের প্রধানকেন্দ্র ছিল এলাকাটি। ১৮ জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ায় পরদিন বাসা থেকে বের হয়নি নাছিমার ভাতিজারা। ১৯ জুলাই সবাই বাসার ভেতরই ছিল। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় জানালার ফাঁক দিয়ে কিংবা ছাদে গিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখে সময় কাটিয়েছেন তারা। দুপুরের পর থেকে দেখতে পান মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টার। সেদিন হেলিকপ্টার থেকে কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছিল ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে। অসংখ্য মানুষ কাঁদানে গ্যাসে আহত হয়। বিকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে নাছিমা তার দুই ভাতিজাকে নিয়ে ছাদে যান সায়েন্সল্যাব এলাকার আন্দোলনের সবশেষ পরিস্থিতি দেখতে। দুই ভাতিজা আগে এবং তাদের পেছনে ছুটতে থাকেন নাছিমা। ছাদে যাওয়ার কয়েক ম...

‘বুড়া মানুষ গুলি খাইছে মরলে সমস্যা নেই’

Image
  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ডেমরা, কদমতলী ও রায়েরবাগে পুলিশ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে আন্দোলনকারীদের। এ সময় অনেক পথচারীও শহীদ হয়েছেন। কাজলার মাছ ব্যবসায়ী শাহিনূর বেগম ছিলেন তেমনই একজন। যিনি পুলিশের ছোড়া গুলিতে ২২ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন। যখন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন এক চিকিৎসক অবজ্ঞার সুরে বলেনÑ বুড়া মানুষ গুলি খাইছে, মরে গেলে সমস্যা নেই। এসব কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জুলাই বিপ্লবে শহীদ শাহিনূরের বড় মেয়ে হাফেজা। হাফেজা বলেন, ‘হাসপাতালে প্রথমদিকে ডাক্তাররা আমার মায়েরে বারান্দায় ফালাইয়া রাখছে। চিকিৎসা করে নাই। সে কথা মনে পড়লে বুকটা ফাইট্টা যায়। সবার হাতে-পায়ে ধরেছি। এরপর যখন মায়ের চিকিৎসা শুরু করে, তখন ডাক্তার বলছে আমার মা’র জন্য আইসিইউ লাগবে। আবার দৌড়াতে শুরু করলাম। কোনো কাজ হয় নাই। এ সময় এক ডাক্তার কইল, বুড়া মানুষ গুলি খাইছে, মরে গেলে সমস্যা নেই। আইসিইউ যুবকদের জন্য দরকার।’ আক্ষেপের সুরে হাফেজা বলেন, ‘তিন দিন পর আইসিইউ পাইছি। এক মাস ৯ দিন মাকে রাখছিলাম ঢাকা মেডিকেলে। কিন্তু মায়ের মুখ থেকে একটা উত্তর, এ...

বারান্দায় দাঁড়ানো লিজার জীবন কেড়ে নেয় বুলেট

Image
  মা-বাবার সংসারে উপার্জনক্ষম মেয়ে ছিলেন মোসাম্মৎ লিজা। সাত বছর সংসারের খরচ চালিয়েছেন। আবার নিজেও মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন। মেয়েকে হারিয়ে দিশাহারা অসুস্থ বাবা-মা। বিয়ে দেওয়ার জন্য কিছু খরচও জোগাড় করেছিলেন নির্মাণশ্রমিক বড় ভাই। কিন্তু সব স্বপ্ন জিইয়ে রেখে চলে গেলেন লিজা। জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া লিজা ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে থেকেও ফ্যাসিবাদের বুলেট থেকে রেহাই পাননি। সেই থেকে পরিবারটিতে এখনো স্বজন হারানোর গভীর শোক। জুলাই বিপ্লবে যুবলীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়ে চার ঘণ্টা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে মারা যান লিজা। গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার দেউলাশিবপুর গ্রামে। শহীদ লিজার লাশ দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে। বড় ভাই মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘বোনটার বিয়ের বয়স হয়েছিল, তাই বাবা-মা কিছুদিন ধরেই তাকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছিলেন। লিজা বলতেন, কোরআনের ১৮ পারা মুখস্থ হইছে, হেফজ শেষ করতে আর তিন মাস লাগবে। হাফেজ হওয়ার পরই সে বাড়িতে যাবে। কিন্তু হেফজ শেষ হলো না, আর বিয়ের পিঁড়িতেও বসা হলো না লিজার।’ ১৮ বছর বয়সি লিজা আর্থিক অনটনে বছর ছয়েক আগে বড় ভাই রাকিবের মাধ্যমে ঢাকায় কাজ করতে আসেন। রা...

ছোট্ট রিয়ার মাথায় হেলিকপ্টার থেকে গুলি

Image
  ‘আমার দিন-রাত, পৃথিবী, আমার জীবন- এর সবকিছুই ছিল রিয়া। সে এখন আর দুনিয়াতেই নেই। ফ্যাসিবাদের রোষানলের ‍বুলেট আমার বুক থেকে ওকে কেড়ে নিল। আমার কোলের মধ্যে থাকাবস্থায় ওর ছোট্ট শরীরটাকে রক্তাক্ত হতে দেখেছি, আবার চিরদিনের জন্য তাকে হারিয়ে ফেলেছি।’ কথাগুলো বলছিলেন জুলাই বিপ্লবে প্রাণ দেওয়া রিয়া গোপের বাবা দীপক কুমার গোপ। রিয়ার জন্য এখনো ছটফট করেন বাবা দীপক। সন্তানহীন নিজেকে বর্তমান জীবনের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না তিনি। তার সবকিছুই এলোমেলো। রিয়ার মুখ ছাড়া অন্য কোনো ভাবনা তার জীবনে নেই। আর মেয়ের প্রসঙ্গ উঠলে এখনো মাঝে মাঝে জ্ঞান হারান মা বিউটি গোপ। দীপক কুমার গোপ স্থানীয় একটি রড-সিমেন্টের দোকানে ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করেন। বিউটি গোপ পেশায় গৃহিণী। বিয়ের পাঁচ বছর পর তাদের কোলজুড়ে এসেছিল রিয়া। খুবই হাসিখুশি ছিল। দুষ্টুমিতে সবাইকে মাতিয়ে রাখত। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সবার আদুরে ছিল সে। মাত্র সাড়ে ৬ বছর বয়স ছিল শিশু রিয়ার। বেঁচে থাকলে এ বছর সাতের কোটায় পা দিত। স্কুলে মাত্র যাওয়া-আসা শুরু করেছিল। নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়ামাটি এলাকায় তাদের বাসস্থান। পাঁচতলা ভবনের ওপরের তলায় থাকত তারা। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই...