Posts

Showing posts from March, 2025

অসহায় সুজনের পরিবার

Image
  জুলাই আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সুজন ইসলাম। কাজ করতেন আশুলিয়ার এক গার্মেন্টস। একমাত্র উপার্জনকারী এ সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় গত ৫ আগস্ট আন্দোলনে যোগ দেন সুজন। সেখানে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সহযোদ্ধারা গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে পথেই সুজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরদিন সুজনের লাশ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবী গ্রামে আনা হয়। সন্তানের মৃত্যুর খবরে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। এলাকাজুড়ে শুরু হয় শোকের মাতম। এ ঘটনায় সুজনের বাবা সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেনসহ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শহিদুল ইসলাম ও রিজিয়া বেগম দম্পত্তির একমাত্র ছেলে সুজন। শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবা শহিদুল বর্তমানে কর্মহীন। স্বচ্ছলতা ফেরাতে আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন সুজন। সেখানেই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর নিহত হন পুলিশের গুলিতে। সুজনের বাবা শহিদুল বলেন, আমার ছেলের পাঠানো টাকা দিয়ে সংসার চলত। আমরা গরিব। ছেলে ছা...

অভাব-অনটন পিছু ছাড়ছে না শহীদ হৃদয়ের পরিবারের

Image
  সংসারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলেকে হারানোর পর থেকেই অভাব-অনটন পিছু ছাড়ছে না শহীদ শিহাব হাসান হৃদয়ের পরিবারের। সংসারের হাল ধরতে হৃদয় রাজধানীতে ফার্নিচারের শোরুমে কাজ করত। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয় ১৭ বছর বয়সি এই তরুণ। ১৯ জুলাই রাজধানীর বাড্ডায় পুলিশের ছোড়া বুলেট হৃদয়ের বুকের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়। অভিভাবকরা তাকে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরলেও ভর্তি করানো যায়নি। একপর্যায়ে হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতেই হৃদয় শহীদ হয়। সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যায় রক্তিম জুলাইয়ের এই সাহসী তরুণ। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সন্যাসীরচর এলাকার আজগর হাওলাদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিল হৃদয়। শাহ আলম হাওলাদার ও নাছিমা বেগম দম্পতির ছেলে হৃদয়। পরিবারে তার এক ছোট বোন রয়েছে। তবে বাবা শাহ আলম বর্তমানে অসুস্থ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কাঁধে আঘাত পান তিনি। এরপর থেকে ভারী কোনো কাজ করতে পারতেন না। এর মধ্যেই আবার হার্টে সমস্যা দেখা দেয়। দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে নাছিমা বেগমের সংসারে তৈরি হয় আর্থিক সংকট। সংসারের হাল ধরতে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন নাছিম...

গুলিবিদ্ধ মিরাজের ভবিষ্যৎ

Image
  জুলাই আন্দোলনে একটি গুলি ১৪ বছর বয়সি মিরাজ হোসেনের পেটের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অপারেশনের সময় পেটে সেলাই লেগেছে ২৯টি। এখন সুস্থ হলেও সে স্বাভাবিকভাবে কোনো কাজ করতে পারে না। একটু হাঁটাচলা করলেই হাঁপিয়ে ওঠে। এ অবস্থায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মা ও একমাত্র বোন। মিরাজের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গত বছরের ২০ জুলাই গুলিতে গুরুতর আহত হয় মিরাজ। জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে তাকে দেওয়া হয়েছিল এক লাখ টাকা, যা ইতোমধ্যে চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে। চলমান চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে এবং তার কর্মসংস্থানের জন্য এখন প্রয়োজন সাহায্য। মিরাজের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানাধীন উত্তর নাউরী গ্রামে। তার বয়স যখন দেড় বছর, তখন বাবা আক্কাছ আলী মারা যান। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার পর আর্থিক অনটনের কারণে তার আর পড়ালেখা হয়নি। ২০১৬ সালে মা মীনা বেগম, একমাত্র বড় বোন পারভীন আক্তারের হাত ধরে সে পাড়ি জমায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হীরাঝিল এলাকায়। শুরু করে জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম। পরিবারের ব্যয় মেটাতে ইলেকট্রিকের কাজ শিখতে শুরু করে। বোন পারভীন আক্তার স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চা...

কান্নারও কেউ নেই শহীদ লতিফের

Image
  আবদুল লতিফ। ১৯৭৮ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের গয়লা এলাকায় তার জন্ম। লতিফ যখন তার মা বেদেনা খাতুনের গর্ভে ছিলেন, তখনই তার ভাগ্যে নেমে আসে এক ধরনের অনিশ্চয়তা। বাবা আসু মুন্সি বেদেনাকে তালাক দেন। ফলে আশ্রয়ের অভাবে বেদেনা চলে আসেন সিরাজগঞ্জের গয়লা এলাকায় বোন নুরজাহানের কাছে। সেখানেই জন্ম হয় লতিফের। শৈশব থেকেই লতিফের জীবন কষ্টের ছিল। আর এতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। মা বেদেনা মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাকে বড় করেন। কিন্তু একসময় তিনিও চলে যান না ফেরার দেশে, রেখে যান এক নিঃসঙ্গ এতিম লতিফকে। খালার সংসারে আশ্রিত লতিফ বড় হলেও নিজের বলতে কিছু ছিল না। না কোনো সম্পদ, না কোনো নিরাপত্তা। তরুণ বয়সে লতিফ খেটেখাওয়া মানুষের কাতারে নিজেকে দাঁড় করান। কখনো দিনমজুরি, কখনো রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু খালাও মৃত্যুবরণ করলে লতিফ পুরোপুরি একা হয়ে যান। নিঃসঙ্গ জীবনে নিয়মিত কোনো রোজগার ছিল না, বিয়েও করেননি। তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ ছিল না। ছিল না কোনো সামাজিক স্বীকৃতিও। এমন এক অবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হয়েও দেশ ও জাতির জন্য কিছু একটা করার স্বপ্ন ছিল লতিফের। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকার রাজপথে বৈষম্যবিরোধ...

মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই শহীদ ইমনের পরিবারের

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন এক দফায় রূপ নেয়; তখন শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে ৪ আগস্ট টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই বিশ্ব রোডে ছাত্র-জনতার মিছিলে যোগ দেন ইমন হাসান। একপর্যায়ে মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন ইমন। তাকে দ্রুত মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাধা দেয় পুলিশ। অনেক অনুরোধ ও চেষ্টার পর অবশেষে পুলিশ যেতে দেয় এবং সেদিন রাতেই ইমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হতদরিদ্র পরিবারটি অর্থের অভাবে ইমনের চিকিৎসা ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারেনি। ১২ দিন পর ১৮ আগস্ট ভোর ৫টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইমন। টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন ইমন হাসান। তিনি নলিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ভূঞাপুরের অলোয়া মনিরুজ্জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে গোপালপুরের হেমনগর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। নিজের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারের সহা...

পুলিশ ও আ.লীগ ক্যাডারদের গুলিতে শহীদ হন জালাল

Image
  ২০২৪ সালের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের গণআন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মুগদা থানা শ্রমিক দলের সদস্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দিন। আন্দোলনের মাঝপথে ২০ জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর বিশ্বরোড চৌরাস্তায় শহীদ হন তিনি। ৪১ বছর বয়সি শহীদ জালালের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ থানার সখিপুর ইউনিয়নের আনু সরকারকান্দি গ্রামে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিতে হারিয়ে দুই শিশুসন্তান জিসান (১২) ও শিহাবের (৭) ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন শহীদ জালালের স্ত্রী মলি আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমার দেশকে মলি আক্তার বলেন, মাত্র আট বছর বয়সেই বাবাকে হারান জালাল উদ্দীন। ফলে অর্থাভাবে পড়াশোনা করতে পারেননি। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালাতেন। গ্রামের বাড়িতে জালালের নেই নিজের কোনো ঘর। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জালাল শহীদ হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন ও মানিকনগর বিএনপির সহায়তায় কোনোরকমে সংসার চলছে মলি আক্তারের। বড় ছেলে সিজান মানিকনগর আইডিয়াল স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ে। ছোট ছেলে পড়ে মাদরাসায়। মলি আক্তার বলেন, ‘আমার যত...

দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন রাসেল

Image
  জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন রায়গঞ্জের রাসেল রানা। এরপর থেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জুলাইয়ের এই যোদ্ধা। পরিবারও পড়েছে বিপাকে। কারণ রাসেল ছিলেন ঘরের একমাত্র উপার্জনকারী। জানা গেছে, কোম্পানিতে চাকরিরত অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন রাসেল। এ সময় তার চোখ-মুখসহ শরীরের অধিকাংশ স্থানে আঘাত করে পুলিশের ছোড়া বুলেট। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় ডান চোখে একটু একটু দেখতে পেলেও হারান বাম চোখের আলো। রাসেলের বৃদ্ধ মা ঝরনা বেগম বলেন, রাসেল গাজীপুরের হাইটেক সিটি হুন্দাই ফেয়ার টেকনোলজিতে চাকরি করত। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই সে আন্দোলনে যেত। গত বছরের ৪ আগস্ট বিকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট রাসেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। রাসেলের মা আরো বলেন, গুলিবিদ্ধ রাসেল প্রচণ্ড যন্ত্রণায় এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকার একপর্যায়ে প্রথমে তার ডান চোখে, পরে বাঁ চোখেও গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তার চোখ ও শরীর থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় প...

খুনিদের বিচার চান একমাত্র ছেলেকে হারানো মা

Image
  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিতে গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর দনিয়ার বাসা থেকে যাত্রাবাড়ীতে গিয়ে যুক্ত হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইফাত হাসান খন্দকার। সেদিন পুলিশ-বিজিবি-র‌্যাব ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় যাত্রাবাড়ীর সড়ক-মহাসড়কগুলো। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা এক আন্দোলনকারীর আর্তনাদে সাড়া দিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় ইফাত। ফলে ঘাতক পুলিশের টার্গেটে পরিণত হয় সে। গুলিবিদ্ধকে রেখে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরই পুলিশ বুকে গুলি করে ইফাতকে হত্যা করে। এসব তথ্য জানিয়েছেন শহীদ ইফাত খন্দকারের মা কামরুন নাহার। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি এখন গভীর শোকে মুহ্যমান। এখন তিনি চান খুনিদের বিচার। সেদিনের কথা স্মরণ করে তিনি আমার দেশকে বলেন, একমাত্র ছেলে ইফাতকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিলাম। তখন ইফাত বলেছিল, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে অনেক বাবা-মায়ের সন্তানই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। আমাদেরও যেতে হবে, ঘরে বসে থাকলে আন্দোলন সফল হবে না।’ আগের দুই দিন আন্দোলনে যেতে দিলেও ২০ জুলাই ছেলের মুখে এমন কথা শোনার পর কামরুন নাহার ইফাতকে বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছিলেন না। ২০২২ সালে ইফাতের বাবা...

উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী

Image
  সারা দেশের মতো হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে তীব্র আন্দোলন হয়। এই আন্দোলনের একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন আকিনুর মিয়া। কেবল নিজেই আন্দোলনে অংশ নেননি, অন্যদেরও সংগঠিত করে আন্দোলনে নিয়ে যেতেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে বানিয়াচং থানার সামনে পুলিশ ও সরকারি দলের ক্যাডারদের গুলিতে শহীদ হন তিনি। শহীদ আকিনুরের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তার বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার কামালখানি গ্রামের বন্দেরবাড়ি। তার স্ত্রী রাকিয়া আক্তার। আকিনুর-রাকিয়া দম্পতির দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে রাবিয়ার বয়স ৯ আর ছোট মেয়ে সামিহার বয়স ৫ বছর। ছেলের আব্দুল্লাহর বয়স ২ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আকিনুর। তাকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাকিয়া। মাদরাসায় পড়াশোনা করা আকিনুর ছেলেমেয়েদেরও মাদরাসায় দিয়েছেন। তাদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার ইচ্ছা ছিল তার। সেজন্যই শহীদ হওয়ার দিন সকালেও তিনি স্ত্রীকে বলে যান, আমি না ফিরলেও আমার সন্তানদের তুমি দ্বীনি শিক্ষা দিও। জুলাইয়ের শুরু থেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন আকিনুর। তার স্ত্রীর ভাষ্যমতে, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থে...

তিন সন্তান নিয়ে কষ্টের জীবন মনোয়ারের স্ত্রীর

Image
  স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের এক দফা আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন বাসচালক মনোয়ার হোসেন চৌকিদার (৪৭)। গত বছরের ৫ আগস্ট দুপুরে হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে বিজয় উদযাপনে মেতে ওঠে গোটা দেশ। সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতেও শুরু হয় আনন্দ মিছিল। মনোয়ার সেই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি বেলা সাড়ে ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আসার পর পুলিশ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির মাঝে পড়েন মনোয়ার। তখন থানার সামনে চলছিল গণহত্যা। জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকলেও ফাঁকি দিতে পারেননি সন্ত্রাসীদের চোখ। যুবলীগের ক্যাডারদের ছোড়া একটি বুলেট তার পিঠ দিয়ে ঢুকে বুকের ডান পাঁজর ভেদ করে বের হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মনোয়ার। মিছিলের শিক্ষার্থীরা তাকে যাত্রাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে মারা যান তিনি। শহীদ মনোয়ারের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের শ্রীলংকর গ্রামে। স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪০) ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছিল মনোয়ারের পরিবার। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বামীকে...

জাবিরের উরুতে গুলি লেগেছে।

Image
  মুষ্টিবদ্ধ হাত আর আঙুল উঁচিয়ে ৫ আগস্ট বিজয় মিছিলে গিয়ে হাসিনা বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয় ছয় বছর বয়সি শিশু জাবির ইব্রাহিম। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে কয়েক হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচাতে পারেননি মা-বাবা। সন্তানকে কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না তারা। শুধু তাই নয়, তাদের চাওয়া তাদের সন্তানের নামে হোক কোনো সড়ক বা স্থাপনার নাম। যাতে মানুষ তাদের সন্তানের ত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে যুগের পর যুগ। শহীদ জাবিরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের তুলাই শিমুল গ্রামে। ঢাকার উত্তরার কেসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারি বিভাগের ছাত্র ছিল শিশু জাবির। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে জাবির ছিল ছোট। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট সকালে মাথায় একটি হেলমেট পরে জাবির। এরপর তার বাবাকে বলে, ‘আমি আর্মি অফিসার হব।’বাবা প্রশ্ন করেন, ‘কেন?’ জাবির বলতে থাকে, ‘আমি আর্মি হয়ে পুলিশকে মারব। পুলিশ আমার ভাইদের মারতেছে এ জন্য তাদের মারব।’ বাড়ির সবাই তার কথায় অবাক হয়ে যায়। এদিকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে হাজারো মানুষ তখন সড়কে আনন্দ মিছিল করছিল। ওই দিন দুপুরের দিকে স্ত্রী রোকেয়া বেগম, স...

হেলিকপ্টার থেকে ছোঁড়া গুলিতে শহীদ হন সুমাইয়া

Image
  ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন হাজারো নির্দোষ মানুষ। তার মধ্যে সুমাইয়া আক্তার জুলাইয়ে শহীদ হওয়া প্রথম নারী। ১৯ বছর বয়সি এই তরুণী নতুন সংসার পেতেছিলেন। কোল আলো করে এসেছে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। গত ২১ জুলাই শিশুসন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে বারান্দায় এসেছিলেন হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে। সেই হেলিকপ্টার থেকে ছোঁড়া বুলেটেই প্রাণ হারান সুমাইয়া। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় সুমাইয়া। করোনার সময় আর্থিক সংকটের মধ্যেই সুমাইয়ার বাবা সেলিম মাদবর মারা যান। এরপর মা আছমা বেগম সন্তানদের নিয়ে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন। বড় ছেলে শাকিল গার্মেন্টে ও মেজো ছেলে সজল কার্টন ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন। সুমাইয়া নিজেও একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার পরিবার তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে এ এলাকায় বসবাস করছে। দুবছর আগে কুমিল্লার বাসিন্দা জাহিদ হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় সুমাইয়ার। স্বামী সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। সদ্য শুরু হওয়া সংসার নিয়ে হাজারো স্বপ্ন ছিল সুমাইয়ার। কিন্তু বিয়ের পর স্বামী ও তার পরিবারের যৌতুক নিয়ে চাপ দেওয়াসহ নানা কারণে সংসারে তে...