দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন রাসেল


 জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন রায়গঞ্জের রাসেল রানা। এরপর থেকে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জুলাইয়ের এই যোদ্ধা। পরিবারও পড়েছে বিপাকে। কারণ রাসেল ছিলেন ঘরের একমাত্র উপার্জনকারী।

জানা গেছে, কোম্পানিতে চাকরিরত অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন রাসেল। এ সময় তার চোখ-মুখসহ শরীরের অধিকাংশ স্থানে আঘাত করে পুলিশের ছোড়া বুলেট। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় ডান চোখে একটু একটু দেখতে পেলেও হারান বাম চোখের আলো।

রাসেলের বৃদ্ধ মা ঝরনা বেগম বলেন, রাসেল গাজীপুরের হাইটেক সিটি হুন্দাই ফেয়ার টেকনোলজিতে চাকরি করত। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই সে আন্দোলনে যেত। গত বছরের ৪ আগস্ট বিকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট রাসেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

রাসেলের মা আরো বলেন, গুলিবিদ্ধ রাসেল প্রচণ্ড যন্ত্রণায় এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকার একপর্যায়ে প্রথমে তার ডান চোখে, পরে বাঁ চোখেও গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তার চোখ ও শরীর থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকলে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মির্জাপুর চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করায় । এরপর ৬ আগস্ট ঢাকা জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে প্রাথমিকভাবে চোখের ছিদ্র অপারেশন করা হয়। পরে ২৫ আগস্ট চোখের ছানি অপারেশন করা হয় । এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর রাসেলের চোখ থেকে বুলেট বের করা হলেও বাঁ চোখে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। চোখের উন্নত চিকিৎসায় তাকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে তার চাকরিটাও চলে যায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে আমাদের।

রাসেলের মা আরো জানান, ধার করে ছেলের চোখের চিকিৎসা করাতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। টাকার অভাবে ছেলের বাঁ চোখের আলো নিভে গেছে । এখন সঠিক চিকিৎসা করানো না গেলে রাসেল আর কখনো ভালোভাবে চোখে দেখতে পাবে না।

রাসেল হোসেন বলেন, পুলিশের গুলিতে আমার চোখের আলো হারিয়েছি, তাতে কোনো দুঃখ নেই। আমি আনন্দিত এজন্যই যে, দেশকে ও দেশের মানুষকে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। আমার একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, আরেকটি চোখেরও সমস্যা। আমাকে সহযোগিতা করলে ইনশাল্লাহ আবার সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারব।

Comments

Popular posts from this blog

হে‌লিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে শহীদ হন রা‌কি‌বু‌ল

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ জুয়েলের বাবা-মা

একমাত্র উপার্জনকারী সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার