Posts

Showing posts from September, 2024

দুই মাস ধরে আইসিইউতে অচেতন শিশুটি

Image
  বাসিত খান মুসার বয়স সাত বছরের কাছাকাছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তাঁর জীবনটা প্রায় থেমে গেছে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অচেতন সে। একমাত্র ছেলে কবে চোখ মেলে তাকাবে, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন মা–বাবা। রাজধানীর রামপুরা থানার সামনে মেরাদিয়া হাট এলাকার ছয়তলা বাসা থেকে মুসা ওই দিন দুপুরে দাদির সঙ্গে নিচে নেমেছিল আইসক্রিম কিনতে। তখন আন্দোলন চলছিল। হঠাৎ গুলি এসে লাগে মুসার মাথার সামনের দিকে। সেই গুলি মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে মুসার দাদি মায়া ইসলামের (৬০) তলপেটে ঢুকে যায়। এতে মৃত্যু হয় মায়া ইসলামের। আর মুসাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। সেখান থেকে গত ২৬ আগস্ট তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ সোমবার মুসার বাবা মুস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মুসা কাউকে চিনতে পারে না। দুই হাসপাতাল মিলে এখন পর্যন্ত তার মাথায় ছয়টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। কবে ছেলের জ্ঞান ফিরবে, তা চিকিৎসকেরাও বলতে পারছেন না। নিরুপায় মুসার বাবা বললেন, ‘ছেলেটাকে আই...

এক হাত নিয়ে বাড়ি ফিরলেন আতিকুল

Image
  ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে কাটা। তারপরও ১৯ বছর বয়সী আতিকুল ইসলামের মুখে হাসি লেগেই আছে। বললেন, ‘এক হাত কেটে ফেলতে হয়েছে তো কী হয়েছে, আরেকটা হাত আছে। জীবনটাও আছে। অনেকে তো জীবনটাই হারিয়ে ফেলছেন। আর দেশের প্রয়োজনের সময় কিছু একটা করতে পারলাম, এইটাই তো অনেক।’ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর সেদিন বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার কাছে আতিকুলের হাতে গুলি লাগে। সেদিন তাঁকে নিয়ে প্রথমে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন এবং পরে স্বজনেরা পাঁচটি হাসপাতাল ঘোরেন। একটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর হাতের গুলিটি বের করেন। ৬ আগস্ট দুপুরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) তাঁকে ভর্তি করা হয়। আর ৭ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে হাতটি কেটে ফেলতে হয়। বাঁ হাতে মুঠোফোনে টাইপ করাসহ কিছু কাজ রপ্ত করেছেন আতিকুল ইসলাম। তবে দৈনন্দিন খাওয়া বা অন্য কাজগুলো করে দিচ্ছেন তাঁর মা আমেনা বেগম। ১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান আতিকুল। তিনি এক হাত নিয়ে হাসিমুখে পঙ্গু হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফেরার আগে এদিন বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের নিচেই আতিকুলের সঙ্গে...

রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা

Image
  জুলাইয়ের শেষদিকে গুলিতে আহত এক আন্দোলনকারীর জরুরি ভিত্তিতে গাড়ির দরকার হয়। ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন অ্যাম্বুলেন্স চালক মাসুম হোসেন। মাসুম আহত ওই রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গাড়িতে তোলেন। পরে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) নিয়ে যান। সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাসুম বলেন, "আমরা আসাদ গেটে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমার গাড়ি আটকে দেয়।" কর্মীরা মাসুমকে জিজ্ঞাসা করে যে গাড়িতে থাকা রোগী কীভাবে আহত হয়েছেন। গুলিতে আহত হয়েছে জানানোর পর তারা অ্যাম্বুলেন্স চালকের ওপর চড়াও হয়। কারণ তাদের বুঝতে আর বাকি ছিল না যে মাসুম আহত এক আন্দোলনকারীকে নিয়ে যাচ্ছেন। মাসুম বলেন, "অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর রোগীটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল। আর এদিকে তারা আমাকে জেরা করছিল যে আমি কেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। আমি তাদের বলি, মানুষটি তো মারা যাচ্ছে। আমার কি তার জীবন বাঁচানো উচিত না? তবুও তারা আমাকে আহত ব্যক্তিটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দিচ্ছিলেন না।" ঘটনার একপর্যায়ে সেখানে পুলিশ আসে। তখন মাসুম তাদের গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিছুক্ষ...

৭৫ দিনের শিশুটি এখন অসহায়

Image
  নিষ্পাপ শিশুটির চোখে-মুখে শূন্যতা। মায়ের আদরমাখা স্পর্শ তাকে আর ছুঁয়ে যায় না। ছোট কোমল হাতে মাকে স্পর্শ করতে না পারার যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে। টলমলো চোখে খুঁজছে তার মায়ের মুখটি। জন্মের পঁচাত্তর দিন পর হারাতে হয় মাকে। ২০শে জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় গুলিতে মারা যান বিশ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার। তিনি তার একমাত্র শিশু সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পর ঘুম পাড়িয়ে বেলকনিতে দঁড়িয়েছিলেন। এ সময় ভবনটির ছয়তলার বারান্দার গ্রিল ছিদ্র হয়ে তার মাথায় এসে একটি বুলেট বিদ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঢলে পড়েন মেঝেতে। নিহত সুমাইয়ার মা আসমা বেগম মানবজমিনকে বলেন, আমার নাতনিটাকে কী জবাব দিবো। সে তো অবুঝ, মায়ের অভাব বুঝতে পারলেও মুখ ফুটে বলতে পারছে না কাউকে। ওইদিন নতুন মহল্লার আশেপাশের সবাই গুলি ও হেলিকপ্টারের শব্দ শুনতে পায়। অনেকে তখন বারান্দা, ছাদ এবং জানালায় ছুটে যায় দেখার জন্য। আমার মেয়েও তার বাচ্চাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে বাসার উত্তর দিকের বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এ সময় গ্রিল ভেদ করে বুলেটটি এসে সুমাইয়ার মাথায় লাগে। দুই বছর আগে বিয়ে হয় মেয়েটার। বাচ্চার বয়স এখন চারমাস চলে। সুমাইয়া যখন মারা যায় তখন ওর বয়স আড়াইমাস ছিল।...

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে নিহত ৮৭৫, গুলিতে মৃত্যু বেশি

Image
  ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে নিহত ৮৭৫, গুলিতে মৃত্যু বেশি কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ১৬ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৭৫ জন নিহত হয়েছেন। গুলিতে বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। ১৮ থেকে ২০ জুলাই এবং ৪ থেকে ৭ আগস্ট—এই সাত দিনেই নিহত হয়েছেন ৭৪৮ জন। এ ছাড়া অভ্যুত্থানে আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে কোটা সংস্কারের দাবিতে নানা কর্মসূচি ও ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে হতাহতদের বিষয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পর্যালোচনামূলক ওই প্রতিবেদনের কথা জানায়। ১২টি জাতীয় দৈনিক, এইচআরএসএসের তথ্য অনুসন্ধানী ইউনিট ও সারা দেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য—গণমাধ্যম, হাসপাতাল ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যেসব বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাচ্ছে তারা, তাতে তাদের মনে হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে এক হাজার হবে। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হা...

মাসুমের উপার্জনে চলত সংসার, এখন দিশাহারা পরিবার

Image
  গ্রামের মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে বছর তিনেক লেখাপড়া করে দারিদ্র্যের জন্য আর লেখাপড়া করতে পারেননি মাসুম বিল্লাহ (২৪)। সংসারের অভাব দূর করতে স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। চার বছর আগে গাজীপুরের মাওনার নয়নপুর এলাকায় চলে যান তিনি। সেখানে থেকেই কাজ করছিলেন। স্বপ্ন ছিল টাকা জমিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি আধা পাকা ঘর তুলবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দুটি গুলিতে নিভে গেছে তাঁর জীবনপ্রদীপ। তাঁকে হারিয়ে পরিবার এখন দিশাহারা। নিহত মাসুম বিল্লাহ নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার নলুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান ও মুর্শিদা আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয় ভাই-বোনের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ছিলেন দ্বিতীয়। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা-মা, স্ত্রী ও ছোট দুই বোন নিয়েই মাসুমের সংসার ছিল। তাঁর বাবা সাইদুর রহমান একসময় অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করতেন। তবে বয়সের ভারে এখন আর কাজ করতে পারেন না। বছরখানেক আগে একই উপজেলার আমেনা আক্তারকে বিয়ে করেন মাসুম। তাঁর আশা ছিল টাকা জমিয়ে বাড়িতে একটি আধা পাকা ঘর তৈরি করার। সে অনুযায়ী মাসে মাসে আয়ের কিছু ...

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত আরেক শিক্ষার্থীর ঢাকায় মৃত্যু

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত আশিকুর রহমান আশিক (২৪) নামের এক শিক্ষার্থী মারা গেছেন। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আশিকের ছোট ভাই আতিকুর রহমান বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। নিহত আশিক কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাতভিটা গ্রামের কৃষক চাঁদ মিয়ার ছেলে। উলিপুরের পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। গত ৪ আগস্ট কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থী-জনতার সংঘর্ষের সময় মাথায় ঢিল লেগে আশিক আহত হন। আহত অবস্থায় আশিককে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ১৮ আগস্ট তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তাঁর মৃত্যু হয়। আশিকের ছোট ভাই আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ৪ আগস্ট আমি ও ভাইয়া আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলাম।...

‘আন্দোলনে গিয়ে আমার ছেলে লাশ হয়ে ফিরেছে’

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় গুলিতে নিহত হন মাসুম শেখ (৩০)। তাঁর বড় ভাই মো. হিরা মিয়া পরদিন তাঁর লাশটি খুঁজে পান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। লাশের সারি থেকে ভাইয়ের নিথর দেহটি বের করেছিলেন তিনি। বললেন, একটি গুলি মাসুমের মাথা দিয়ে বের হয়ে যায়। নিহত মাসুম শেখ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার কুকাইল গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তাঁর মায়ের নাম রাহেলা খাতুন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মাসুম ছিলেন সবার ছোট। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় কোয়ালিটি মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। সাড়ে তিন বছর আগে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নাদিরা সুলতানাকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে আড়াই বছর বয়সী নাফিজ হাসান নামের একটি ছেলেসন্তান আছে। মাসুমের স্বজনদের ভাষ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন মাসুম। নিয়মিত আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের খবরে গত ৫ আগস্ট আনন্দমিছিল শুরু হলে সেই মিছিলে যোগ দিতে বের হয়েছিলেন মাসুম। সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় না ফেরায় মাসুমের স্ত্রী নাদিরা সুলতানা বিষয়টি ভাশুর হিরা মিয়াকে জানান। হিরা ঢাকার বংশা...

মা-বাবার কাছে আর ফিরবেন না আশিকুল

Image
  সংসারের দায়িত্ব নিতে বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের তরুণ আশিকুল ইসলাম ওরফে রাব্বির (২০)। কিন্তু বিদেশ যাওয়া আর হয়নি তাঁর। এর আগেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে গুলিতে মারা গেছেন তিনি। একমাত্র ছেলে হারিয়ে এখন মা সামছুন নাহার কেবল কাঁদেন। বাবা আবদুল খালেক সরকারও এ ঘটনায় দিশাহারা। আশিকুল ইসলামের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের তারুন্দিয়া গ্রামে। আবদুল খালেক সরকার ও সামছুন নাহার দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে মেজ ছিলেন আশিকুল। তারুন্দিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় আশিকুলদের বাড়ি হলেও তাঁর বাবা নরসিংদীর মাধবদীতে কাপড় তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। সেই সুবাদে বসবাস করতেন মাধবদীর ভাগীরথপুর মেহেরপাড়া গ্রামে। বাবা আবদুল খালেক কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চালাতেন। আশিকুল ইসলামও বাবার অটোরিকশাটি চালাতেন। স্বজনেরা জানান, গত ২১ জুলাই মাধবদী উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেখেরচর মাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষে মারা যান চারজন। সেদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশিকুল ইসলামও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। মাধবদীর পৌলানপুর ফাজিল মাদ্রাসায় পড়ালেখা করলেও ২০২১ সাল...

মাথায় গুলি লেগে যেভাবে লুটিয়ে পড়েছিল মুগ্ধ, প্রিয় ও রিয়াদ

Image
  মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যখন লুটিয়ে পড়ছিলেন তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল। গত ১৮ই জুলাই মুগ্ধ’র রক্তে যখন রাস্তা ভেসে যাচ্ছিল, তখন তার বন্ধুরা বহু সংগ্রাম করেও সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নিতে পারেননি। "অসংখ্য পুলিশ অস্ত্র হাতে এগিয়ে আসছিলো। কিছুক্ষণ পর রিকশায় করে মুগ্ধকে নিকটস্থ ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন," মুগ্ধ’র বন্ধু আশিক এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ফেসবুকে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর (বিইউপি) ছাত্র মুগ্ধ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকার উত্তরা এলাকায়। তার বাসাও সেখানে। যেদিন মুগ্ধ মারা যান, সেদিন রাজধানী ঢাকা ছিল বিক্ষোভে উত্তাল। সংঘাত ছড়িয়েছিল শহরের অলিগলিতে। বিক্ষোভে নিহত বহু মানুষের মতো মুগ্ধর সদা হাস্যোজ্জ্বল ছবি এখন ফেসবুকে ছড়িয়েছে। অন্যান্য অনেকের মতো মুগ্ধ’র বন্ধু-পরিজনরাও গত কয়েকদিন ধরে তাকে নিয়ে ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করছেন। মুগ্ধ যখন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তখন তার কাছাকাছি ছিলেন বন্ধু জাকিরুল ইসলাম। মুগ্ধ’র কপালে গুলি লাগার দৃশ্যকে তিনি বিবিসি বাংলা’র কাছে এভাবে বর্ণনা করেন, “গুলি লাগছিলো কপালে, মেয়ে...