Posts

Showing posts from January, 2025

‘খুনি হাসিনা আমার ছেলের জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে’

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন এক দফায় পরিণত হয়, তখন তাতে যোগ দেন বগুড়ার শাওন ইসলাম। ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের দৃশ্য দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি ২২ বছর বয়সি শাওন। বাবা-মায়ের অজান্তেই ঝাঁপিয়ে পড়েন আন্দোলনে। সেখানে গুলির আঘাতে এখন পঙ্গুত্ববরণ করছেন। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলি ইউনিয়নের লক্ষ্মীকোলা কাজীপাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়ার ছেলে শাওন ইসলাম। বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক শাখার ছাত্র শাওন। তিনি বলেন, ‘গুলির আঘাতে পঙ্গু হলেও খুনি হাসিনার পলায়নের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। এর থেকে মানসিক শান্তি আর নেই।’শাওনের বাবা সুলতান মিয়া পেশায় একজন কৃষক। মা নাসিমা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্য শাওন বড়। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল শাওন লেখাপড়া শেষে সরকারি চাকরি করে তাদের অভাব-অনটনের সংসারে সুখের হাল ধরবেন। কিন্তু গত জুলাই বিপ্লবে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন শাওন। এখন তিনি পঙ্গু অবস্থায় দিনযাপন করছেন। তবুও তার মনে কোনো কষ্ট নেই। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়েছে শুনে সবাই ...

মগজ আর শরী‌রে ৩৮টি গুলি: যন্ত্রণায় কাতর অমিত

Image
  মাথার মগজের মধ্যে ঢুকে যাওয়া গুলির প্রভাবে ডান হা‌তে কোনো শ‌ক্তি নেই। তবুও ম‌নের শ‌ক্তি হারি‌য়ে‌ যায়‌নি অমিতের। বৈষম্য‌বি‌রোধী ছাত্র আন্দোল‌নে একদফার দাবিতে রাজপ‌থে মি‌ছি‌লে শা‌মিল হ‌য়ে পু‌লি‌শের গু‌লি‌তে আহত হ‌য়ে প্রায় পঙ্গুত্ববরণ করা ঝিনাইদ‌হের ম‌হেশপুর পৌর এলাকার গোপালপুর গ্রা‌মের ১৯ বছ‌রের টগব‌গে যুবক রংমি‌স্ত্রি অমিত হাসানের শান্তনা একটাই, দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হ‌য়ে‌ছে। অমিত হাসা‌ন জা‌নি‌য়ে‌ছেন, অমিত হাসান ও তার বড় ভাই আব্দুল হা‌মিদ ম‌হেশপুর পৌরসভার গোপালপুর গ্রা‌মে নানাবা‌ড়ি‌তে বড় হ‌য়ে‌ছেন। তার বড় ভাই হা‌মিদও পেশায় রং মি‌স্ত্রি। অভাব অনট‌নে নানার বাড়িতে থে‌কে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সু‌যোগ হ‌য়ে‌ছে অমিতের। এরপর থে‌কে অমিত ও তার বড় ভাই হা‌মিদ রং মি‌স্ত্রির কাজ ক‌রে জী‌বিকা নির্বাহ কর‌তেন। দেশব্যাপী বৈষম্য‌বি‌রোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হ‌লে অমিত রং‌মি‌স্ত্রির কাজ ছে‌ড়ে দি‌য়ে আন্দোলন সংগ্রা‌মে যুক্ত হ‌য়ে একদফার দাবিতে সোচ্চার হন। জুলাই মাস জু‌ড়ে প্র‌তি‌দিন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সা‌থে মি‌ছিল কর‌তেন অমিত। এভাবে চ‌লে আসে সেই মহেন্দ্র ক্ষণ। অমিত হাসা‌ন জা‌নি‌য়ে‌ছেন, অম...

‘সন্তানের লাশ কাঁধে নেব তা কখনো ভাবিনি’

Image
  ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে শহীদ হন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাসিন্দা হৃদয় হোসেন (১৭)। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গত ১৯ জুলাই ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন পরিবারের একমাত্র ছেলে। বাবা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, করোনার কারণে আমার একমাত্র ছেলে হৃদয়ের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বাড্ডার লিংক রোডে আমার ফুপাতো ভাই মনির হোসেন মোল্লার কারখানায় কাজে দিই এবং সেখানে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করছিল সে। বেতনের থেকে নিজের খরচের টাকাটা রেখে বাকিটা বাড়ি পাঠিয়ে দিত। ‘আমার সেই ছেলে আর আর বাড়ি ফিরবে না, ডাকবে না বাবা বলে।’ এই কথা বলেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন বাবা শাহ আলম। বিচার চান ছেলে হত্যার। শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল? ওরে কেন গুলি কইরা মারল? বাবা হয়ে সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার কষ্ট কাউকে বলে বুঝাতে পারব না। সন্তানের লাশ কাঁধে নেব, তা কখনো ভাবিনি। কিন্তু কেন আমার সন্তান গুলিতে মারা গেল। তার কি কোনো বিচার পাব না?’ ঘটনার বিবরণ দিয়ে মনির হোসেন মোল্লা বলেন, গত ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে পাশের মেসে খেতে যায় হৃদয়। খাবার শেষে কারখানায় ফেরার সময় রাস্তা পার...

বিয়ের সাড়ে ছয় মাসের মাথায় বিধবা হন স্ত্রী

Image
  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঢাকার রাজপথ তখন উত্তপ্ত। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ছাত্রদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে এসেছে। বাড্ডায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আবদুল হান্নানও তখন নেমে আসেন রাস্তায়। রাজধানীর বাড্ডা এলাকা তখন ছাত্রদের আন্দোলনে উত্তাল। ১৮ জুলাই মধ্য বাড্ডা এলাকায় মিছিল করার সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ছেলে হান্নান। আন্দোলনরত ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। বিয়ের মাত্র ৬ মাস ১৪ দিন পর এভাবেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ঝরে যায় একজন যুবকের জীবন। আর স্বামীকে হারিয়ে অকালে বিধবা হলেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিবি হাওয়া মুক্তা (২০)। বিবি হাওয়া মুক্তা (২০) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের হোটনী গ্রামের বেপারী বাড়ির মো. স্বপন মিয়ার মেয়ে। গত বছরের ৬ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের বড় বাড়ির আমিন মিয়ার ছেলে আব্দুল হান্নানের সঙ্গে বিয়ে হয়। স্বামী আব্দুল হান্নান রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একটি খাদ্য উৎপাদনকারী...

কেউ থামাতে পারেননি রাজীবকে

Image
  সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন তখন তুঙ্গে। ছোট ভাই ফোন করে বলে দিয়েছিল যেন বড় ভাই আরিফুল ইসলাম রাজীব বাসা থেকে বের না হন। তবে কেউ থামাতে পারেননি রাজীবকে। ২০ জুলাই রাজীবের স্ত্রী শরীফা বেগম জানতে পারেন, আন্দোলনে গিয়ে বোর্ড বাজার এলাকায় তার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে, কিন্তু রাজিবের পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। রাজিবের বাবা এখন ভিক্ষা করে সংসার চালান। রাজীব ছিলেন ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী। থাকতেন গাজীপুর সদরের বোর্ড বাজার এলাকায়। আদর্শনগর বটতলায় ভাঙাড়ির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো ২০ জুলাই সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। দুপুরে বাসায় আসেন। খাবার খেয়ে ১০০ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হলে স্ত্রী শরীফা যেতে বাধা দেন। কিন্তু বাধা শোনেননি। চলে যান আন্দোলনে। অতঃপর গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শরীফার কাছে তখন কোনো টাকা ছিল না। স্বামীর লাশ কীভাবে মতলব উত্তরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাবেন, সে চিন্তায় পড়ে গেলেন। পরে বোর্ড বাজার এলাকার লোকজনে...

দু’পায়ে পুলিশের গুলিতে আহত

Image
  আমরা রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু আমাকে কেউ স্মরণ করে না। এভাবে আক্ষেপ করে আমার দেশ’র প্রতিনিধিকে বলছিলেন হবিগঞ্জের বাহুবলের তানভীর। কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা উপজেলা প্রশাসনের কেউ খোঁজ নেয়নি। সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তানভীরের মা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ছিলেন হবিগঞ্জের বাহুবলের বাসিন্দা তানভীর আহমেদ। সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র তানভীর। তিনি ১৮ জুলাই বিকেলে ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হন। দুই পায়ে গুলি এবং কপালে রাবার বুলেটের আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান পিচঢালা রাজপথে। সহপাঠীরা উদ্ধার করে নিয়ে ভর্তি করেন মিরপুর ২ জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে। তিনঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করেন। মিছিলে অংশগ্রহণ, পায়ে গুলি, মাথায় রাবার বুলেট লাগার সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারানোর কারণে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কী হয়েছে মনে নেই তার। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালাতে বাধ্য হন। ১৩ দিন পর বাড়ি এসে গোপনে চিকিৎসা নেন। এখনো তার শারীরিক সুস্থতা ফিরেনি। ত...

আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে খুন করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা

Image
  স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজশাহী নগরীতে শুরু হওয়া আন্দোলনে অংশ নেন মো. সাকিব আনজুম (২৮)। ৫ আগস্ট আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা থেকে কয়েকজন নারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন সাকিব। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। তাকে একটি বাড়িতে নেওয়া হলে সেই বাড়িটি ঘেরাও করে সন্ত্রাসীরা। সেখানে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুলিবিদ্ধ সাকিবের মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে শুরু থেকেই ছিলেন মো. সাকিব আনজুম। ৫ আগস্ট কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজশাহীর তালাইমারি শহীদ মিনার এলাকার নিজ বাসা থেকে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে তালাইমারি নর্দান মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট অভিমুখে যাওয়া আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার সঙ্গে যোগ দেন। আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কাছাকাছি যেতেই ককটেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে থাকে পুলিশ। তাদের সঙ্গে ছিল আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের যুগপৎ আক্রমণে সে সময় কিছুটা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান আন্দোলনকারীরা। এ সময় নারী শিক্ষার্থীসহ কিছু আন্দোলনকারী একটি গলিতে আশ্রয় নেন। সেখ...

গুলিবিদ্ধ ওয়াসিমের মৃত্যু নিশ্চিতে ছুরিকাঘাত

Image
  চট্টগ্রাম মহানগরের ষোলশহর স্টেশনে ছিল কোটা সংস্কারের দাবিতে মাঠে থাকা আন্দোলনকারীদের সমাবেশস্থল। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই শিক্ষার্থীদের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল সেখানে। এ কারণে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবর ও নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। অবস্থা বুঝে ছাত্ররা তাদের সমাবেশ সরিয়ে নেয় মুরাদপুরে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। একসময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা একযোগে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। ওই গুলিতে আহত হয়ে পড়ে যান ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। গুলিবিদ্ধ সেই ওয়াসিমকে আহত পেয়ে তারা কাছে এসে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে কয়েকজন সহযোদ্ধা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।সারা দেশের ছাত্র-জনতা যখন রাস্তায় নেমে এসেছিল, সে সময় ওয়াসিম আকরাম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এই পরিচয়ে শহীদ হব।’ ওই স্ট্যাটাসের ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই সত্যি সত্যিই শহীদ হয়ে যান ওয়াসিম। আর তিনিই মর্যাদা পান জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ...

গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল সজলের লাশ

Image
  ৫ আগস্ট। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। সেদিন দুপুরে সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে পুলিশ ও পেটোয়া বাহিনী। শুধু তা-ই নয়, হত্যার পর কয়েক জনের লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটায় পুলিশ। সজল তারই একজন। বাবা খলিলুর রহমান স্মৃতিচারণা করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের ছিল সজল। পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষের ভালো-মন্দ নিয়ে ভাবত। ন্যায়নীতি, মানুষের অধিকার নিয়েও কথা বলত। পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ছিল ভালো। আর মাত্র দুই বছর পরেই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হয়ে আসত। তার আগেই দুনিয়া থেকে নাই হয়ে গেল আমার বাপজান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহীদ সজলের মা শাহিনা বেগমের প্রশ্ন, ওরা আমার বাবাটাকে গুলি করে মেরে ফেলে পুড়িয়ে ফেলল কেন? কী দোষ ছিল আমার সজলের? আমার বুকটা খালি করল কেন ওরা? ছেলেটার পুড়ে যাওয়া দেহটা সারাক্ষণ কাঁদায়। সজলের বাবা খলিলুর রহমান আরো জানান, ৫ আগস্ট সকালে ছেলেকে ফোন করলে সে বলেছিল, তোমরা চিন্তা করো না। আমি মিছিলে আছি। বিকেলে বাসায় ফিরব। এটাই শেষ কথা ওর সঙ্গে। দুপুরের আগে, পরে ও রাত পর্যন্ত বারবার ফোন করেও আর পাইনি তাকে। ফোন বন্ধ দেখায়। অনেক খোঁজাখুঁজি কর...

মাকে চিঠি লিখে মিছিলে যান আনাস, ফেরেন লাশ হয়ে

Image
  ‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। স্যরি আবুজান। তোমার কথা অমান্য কোরে বের হোলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বোসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাইরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম কোরে যাচ্ছে। অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ল্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেনো বোসে থাকবো ঘরে। একদিন তো মরতে হবেই। তাই মৃত্যুর ভয় কোরে স্বার্থপরের মতো ঘরে বোসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয়, সে-ই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেঁচে না ফিরি, তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।’ ৫ আগস্ট কাঁপা হাতে ভুল বানানে মায়ের উদ্দেশে এই চিঠি লিখে লংমার্চ টু ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আদর্শ একাডেমির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস। আর পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়ে বরণ করেন বীরের মতো শ্রেষ্ঠ মৃত্যু। ঢাকার গেণ্ডারিয়ার বাসিন্দা শাহরিয়ার খান আনাস ছিলেন ১৬ বছরের কিশোর। সবেমাত্র দশম শ্রেণিতে পড়তেন। এ বয়সেই দেশের জন্য, মুক্...