Posts

Showing posts from February, 2025

জহিরুলের হাতে-পাঁজরে গুলি করে পুলিশ

Image
  স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তখন এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। উত্তপ্ত সারা দেশ। ৪ আগস্ট সকাল থেকেই ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে। বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বংশালে আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন জহিরুল ইসলাম সোহাগ। জহিরুল কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মহেশপুর গ্রামের মৃত শাহ আলম সরকারের ছেলে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সরেজমিনে কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলা মহেশপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, নিহত জহিরুল ইসলামের বাবা ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর তার মা মোর্শেদা বেগম দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছেলে জহিরকে বিয়ে করিয়ে সুখের সংসারে কাটাচ্ছিলেন। ৪ আগস্ট ওই সুখের সংসারে যেন অন্ধকার নেমে এলো, থমকে গেল নিহত জহিরুল ইসলামের তিন বছর বয়সি মেয়ে জাকিয়া সুলতানা ঝুমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো সম্পদ বা সম্পত্তি নেই যা দিয়ে নিশ্চিন্তে সংসার চলবে। ঘরে একমাত্র সম্বল একটি সেলাই মেশিন। এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মেনে নিয়ে চার চালা টিনশেড ঘরে শাশুড়ি ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন নিহত জহিরুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। জান্নাতুল ফেরদৌস আমার দেশকে বলেন, আমার স্বামী জহিরুল ইসলাম সোহাগ (২৭)...

পেটে গুলি লাগায় খাদ্যনালি ছিদ্র হয়ে যায়

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তখন তুঙ্গে। প্রতিদিনই পুলিশের গুলিতে ঝরে পড়ছে তাজা প্রাণ। ১৯ জুলাই নরসিংদীর ইটাখোলা মোড়ে শিক্ষার্থীদের ডাকে আন্দোলনে যোগ দেন মাঈন উদ্দিন। পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন। একটি গুলি তার ডান হাত ভেদ করে বের হয়ে যায়। আরেকটি গুলি পেটের নিচের অংশে ঢুকে নাড়িভুঁড়ি ভেদ করে কোমরের পেছনের দিকে আটকে থাকে। এখনো তিনি কঠিন সংকটে নিপতিত। তার আরো চিকিৎসা প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাড়ৈই আলগী গ্রামের মিলন খানের ছেলে মাঈন উদ্দিন। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন ২৪ বছর বয়সী এই টগবগে যুবক। চার বছরের একমাত্র মেয়ে রিদনী, স্ত্রী জেসমিন, বাবা মিলন খান ও মা উম্মে কুলসুমকে নিয়ে তার সংসার। রিকশা চালিয়ে যে টাকা আয় করেন তা দিয়েই চলত সংসার। ১৯ জুলাই সব তছনছ হয়ে যায়। তিনি জানান, নরসিংদীর ইটাখোলা মোড়ে শিক্ষার্থীদের ডাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। একপর্যায়ে তার হাত ও পেটে গুলি লাগে । আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাকে প্রথমে অর্থোপেডিক হাসপাতালে নেন। ওই রাতেই অর্থোপেডিক হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হ...

‘গুলিতে ঝাঁজরা আমার বাবুর ছবি চোখে ভাসে, ঘুমাতে পারি না’

Image
  টঙ্গী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফাহমিন জাফর। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বন্ধুদের সঙ্গে উত্তরা এলাকায় যোগ দেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে গুরুতর আহত হয়ে উত্তরার একটি মার্কেটের সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন ফাহমিন। ছররা গুলিতে তার সারা শরীর ঝাঁজরা হয়ে যায়। পরে আন্দোলনের সহযোগীরা তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি। বাবা-মায়ের চার সন্তানের সবার ছোট ফাহমিন জাফর। নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার তারাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা তারা। ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করবেন। সেই স্বপ্ন বোনার অদম্য লক্ষ্যে মা মোসাম্মৎ শিল্পীর সঙ্গে ঢাকায় মামাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন ফাহমিন। বাবা শেখ আবু জাফর বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিল ফাহমিন। ১৮ জুলাই ছেলের সঙ্গে সকাল ১০টার দিকে মুঠোফোনে তার শেষ কথা হয়। জানতে চাই কোথায় আছ। উত্তর দিল, আন্দোলনে আছি বাবা। তাকে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে যেতে বলেছি। কিন্তু ছেলে ফিরল ঠিকই, তবে লাশ হয়ে।’ ফাহমিনের ফোনের কলতালিকায় সবার শেষে ছিল বাবার নম্বর। কেউ একজন ওই নম্বরে ফোন করে জান...

দুচোখ হারানোর ঝুঁকিতে রাজমনি

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে চাকরি হারালাম। ডান চোখ গেল। চোখের চিকিৎসায় হলাম সর্বস্বান্ত। এখন বাম চোখও হারাতে বসেছি। আমি নিঃস্ব, বঞ্চিত ও নিপীড়িত। কেউ কোনো সহায়তা করা তো দূরের কথা, এসে একটু খোঁজও নেয়নি। যদি বাম চোখও নষ্ট হয়ে যায় তবে দুনিয়ার আলো আর দেখা হবে না। আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের টিয়ার শেলে এক চোখ হারানো টঙ্গীর বিধবা পোশাকশ্রমিক রাজমনি আক্তার। রাজমনি শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার ফিরোজপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে। তিনি টেকবান লিমিটেড পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করতেন। কিন্তু চোখ হারানোর পর এখন তার ঠিকানা হয়েছে বোনের ভাড়া বাসায়। রাজমনি জানান, গত ২০ জুলাই রাজপথে ছাত্র-জনতার স্লোগানে কারখানায় স্থির থাকতে পারছিলেন না তিনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে কারখানার নিরাপত্তা প্রহরীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনে যোগ দিয়ে, ‘এক দফ এক দাবি, খুনি হাসিনা তুই কবে যাবি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর আচমকা শুরু হয় আক্রমণ, মুহুর্মুহু গুলি ও টিয়ার শেল ...

শহীদ সাদিকের পিঠ ভেদ করে নাভির পাশে আটকে যায় গুলি

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হন হাফেজ মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সাদিক। স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে মাওলানা হবেন। সে সঙ্গে মায়ের দুঃখ মোচন ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাবেন বলেও মাকে জানিয়েছেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে মফস্বল থেকে রাজধানীতে আসেন পড়াশোনা করতে। উচ্চশিক্ষা নেওয়ারও স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এসব স্বপ্ন পূরণের অনেক আগেই মাত্র ২২ বছর বয়সে শহীদ হন তিনি। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ক্ষমতার মোহে পুলিশের করা গুলিতে শহীদ হন হাফেজ সাদিক। হাফেজ সাদিকের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে। সাগরদীঘি ইউনিয়নের পাহাড়ি পল্লি ফুলবাড়িয়ার করিমগঞ্জ ঘোনাপাড়া গ্রামের ছেলে সাদিক। বাবা কুয়েতপ্রবাসী লুৎফর রহমান লেবু। মায়ের নাম শাহনাজ বেগম। তিন ভাইয়ের মধ্যে সাদিক দ্বিতীয় সন্তান। সাদিকের বড় ভাই শামীম সিঙ্গাপুরপ্রবাসী। ছোট ভাই শাহেদ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, করিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাদিকের লেখাপড়ার হাতেখড়ি। পরে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় গ্রামের পার্শ্ববর্তী সখিপুরের আড়াইপাড়া মাদরাসায় হাফেজিতে ভর্তি হন। সেখানে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে ঢাকার মিরপুরের আরেক মাদরাসায় হাফেজি পড়া শেষ...

ছররা গুলিতে আহত হয়েও পিছু হটেনি আলিফ

Image
  গত বছরের ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় ১৪ বছর বয়সি কিশোর সৈয়দ মুনতাসির রহমান আলিফ। কিন্তু গুলিও থামাতে পারেনি তাকে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায়ই আন্দোলনে অংশ নিতে থাকে সে। এরপর ৫ আগস্ট বাবা-মায়ের বাধা উপেক্ষা করে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেয় সে। সেদিন জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদরাসার সামনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করে আলিফ। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে যাত্রাবাড়ীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, যাত্রাবাড়ী মাদরাসা ও আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদেরই একজন আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাসির রহমান আলিফ। সে ইসলামী ছাত্রশিবির সাথী ছিল বলে জানিয়েছেন তার পিতা কাজলা এলাকার জামায়াত নেতা সৈয়দ গাজীউর রহমান। ১৮ জুলাই বাসা থেকে কোচিংয়ের কথা বলে বেরিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যোগ দেয় আলিফ। সেদিনই পুলিশের ছররা গুলির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার শরীর। প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে বাসায় গেলেও বাবা-মাকে জানায়নি সে। শরীরে যন্ত্...

হাঁটুর ওপরে গুলি লেগে ওপাশ দিয়ে বের হয়ে যায়

Image
  ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গাজীপুরের সফিপুরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুদ মিয়া। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার দিনও ওই এলাকার রাজপথে মিছিল করছিলেন তিনি। এ সময় স্বৈরাচারের তাঁবেদার পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন । ১১ দিন হাসপাতালের বেডে থাকতে হয়। বাবার সম্বল একটি জমি বন্ধক রেখে ও গরু বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ চলে। এখন সংসার চলছে কষ্টে। নিজেদের রক্ত দিয়ে একটি মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি আমরা। অথচ আমাকে নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। খোঁজ-খবরও নেয় না। আমার দেশ-এর এই প্রতিবেদককে এভাবেই আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মাসুদ মিয়া। তিনি জানান, চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর পর তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই গবিব বাবার সংসারে। মাসুদের পায়ে আরও একটি অপারেশন করাতে হবে। তাই সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তার বাবা-মা। মাসুদ মিয়া জানান, পুলিশের গুলি আমার বাম পায়ের হাঁটুর ওপরে লেগে হাঁড় ভেঙে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। বুকে ও পেটে রাবার বুলেটের আঘাতে অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়ি রাজপথে। গুলির আঘাতে পায়ের হাঁড় গুঁড়ো হয়ে জখমে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। ভিজে যায় রাজপথ। সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধ...

উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪-এর ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র‍্যাবের গুলিতে শহীদ হন মিরাজুল ইসলাম অর্ণব (২৩)। প্রথমে পায়ে ও পরে বুকে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে কাঁপা কাঁপা গলায় তার শেষ কথাগুলো ছিল-‘আল্লাহ তুমি আমাকে বাঁচাইয়া রাখো। আমি মরে গেলে আমার আব্বু-আম্মুকে কে দেখবে? আমি আমার আব্বু-আম্মুকে অনেক ভালোবাসি। হুজুর আমাকে কালেমা পড়ান, তওবা পড়ান। আমি পানি খাবে, পানি দাও।’ এর পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অর্ণব। অর্ণবের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামে। তবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। আবু তালেব ও সাহিদা বেগম দম্পতির তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে অর্ণব সবার ছোট। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। অর্ণবকে বিয়ে করাবেন বলে পাত্রীও ঠিক করেছিলেন তারা। কিন্তু তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর দনিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অভাবের সংসারের হাল ধরতে ফকিরাপুল ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি নেন অর্ণব। জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর পর সময় পেলেই বাসায় না জানিয়ে আন্দোলনে যোগ দিতেন। অর্ণব মারা যা...

‘দেশের জন্য জীবন দিচ্ছি এটাই পরম পাওয়া’

Image
  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি মিছিলে যুক্ত থাকতেন শুভ শীল। উত্তাল জুলাইয়ের ২০ তারিখ বিকেলে সাভার বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ তাকে গুলি করে। তিন দিন পর সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। হাসপাতালের বেডে কাতরাতে কাতরাতে কিছু কথা তার ভাই সোহাগ শীলকে বলে গেছেন। তিনি বলেন, আমি হয়তো বাঁচব না, দেশের জন্য রাস্তায় নেমে জীবন দিলাম এটাই আমার জীবনের পরম পাওয়া। শুভ শীলের বয়স হয়েছিল মাত্র ২০ বছর। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নের মুনুড়িয়া গ্রামে জন্ম শুভ শীলের। দুই ভাইয়ের মধ্যে শুভ ছোট। জীবিকার তাগিদে বাবা বিকাশ শীল, মা সাধনা রানী শীল, বড় ভাই সোহাগ শীলসহ শুভর পরিবার থাকত সাভারের আশুলিয়া এলাকায়। বিকাশ শীল সেলুনে কাজ করেন আর তার দুই ছেলে সোহাগ ও শুভ গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। এসএসসি পাস করলেও সংসারে অভাবের কারণে শুভর উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নামলে শুভ গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে তার সহপাঠীদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়েন এক দফার দাবিতে। ২০ জুলাই সকাল থেকেই সাভার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফ্যাসিবাদের দো...

শরীরে ৫৫ গুলির চিহ্ন ছিল শহীদ ওসমানের

Image
  ‘আম্মু তুমি অনুমতি দাও। আমার মন বলে, হৃদয় বলে-আমরা গেলে এই সরকারের পতন হবেই হবে, বিজয় হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। তোমরা যদি আমাদের আটকে রাখো, তাহলে দেশ থেকে কীভাবে অন্যায় দূর হবে? কীভাবে পরিবর্তন আসবে? ঘরে বসে থেকে আমি কাল কিয়ামতের মাঠে কী জবাব দেব? তোমরা কী চাও না শহীদের মা-বাবা হতে আম্মু? শহীদের মর্যাদাই বুঝলে না? তোমাদের ঈমানের ঘাটতি আছে এখনো। আমাকে তুমি আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দিয়ে দাও। আল্লাহ যেন আমাকে আজকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। আমাকে কিছু টাকা দাও, যাওয়ার সময় আমার ভাইদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে যাব।’ ৩ আগস্ট রাতে ও ৪ আগস্ট ২০২৪ সকালে এসব বলেই শত বাধা অতিক্রম করে মাকে বুঝিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার অনুমতি নেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথিপ্রার্থী মো. ওসমান পাটোয়ারী (২২)। মা রেহানা আক্তার কোনোভাবেই ছেলেকে বোঝাতে না পেরে অনুমতি দিলেও ওসমানের বাবা মো. আবদুর রহমানকে বিষয়টি জানান। বাবা ফোনে বোঝানোর চেষ্টা করতেই ওসমান বলেন, ‘বাধা দিও না। আব্বু তুমি আমারে মাফ করে দিও, আমি আজকে যাব। আমার ভাইরা শহীদ হচ্ছে, আমাকে বাধা দেবে না ।’ কথাগুলো বলেই ওসমান ফোন কেটে দেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা আবদুর রহমান। এরপর ৪ আগস্ট ...