শাহাদাতের মাকাম স্পর্শ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে

 জুলাইয়ের সন্তানেরা মরে না। তারা শুধু তাদের দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনকে ইনসাফের পথে, হকের পক্ষে, জুলুমের বিরুদ্ধে কুরবানি করে। ওরা জীবন বাঁচাতে রাজপথে যায়নি। ওরা জীবন হাতে নিয়েই জুলাইয়ের ময়দানে নেমেছিল। ওরা জানত, বাতিলের সামনে, জালিমের সামনে মাথা নত করে বেঁচে থাকা জীবন নয়, বরং ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়ে জীবন দিলে তার সামনে মহাজীবনের দরজা খুলে যায়। জুলাইয়ের যোদ্ধারা সেই মহাজীবনের স্বাদ পাইছে।

ওরা রাজপথে শুধু প্রতিবাদের জন্য ছিলোনা, ছিলো শাহাদাতের মাকাম স্পর্শ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। ওরা গিয়েছিল মহাজীবনের স্বাদ পেতে। জুলাই যোদ্ধাদের জীবন কবরের অন্ধকারে শেষ হয় না, তাদের জীবন শহীদের রক্তে, মজলুমের দোয়ায়, মুক্ত স্বদেশের স্মৃতিতে, ইতিহাসের কিতাবে জিন্দা থাকে। জুলাইয়ের এই সন্তানেরা কোনো বিচ্ছিন্ন প্রজন্ম নয়। ওদের রক্ত বাঁধা আছে হাজার শহীদের রক্তের সিলসিলায়। পলাশীর বিশ্বাসঘাতকতা থেকে স্বাধীনতার রক্তধারা, শাপলা চত্বর থেকে জুলাইয়ের রাজপথ, এক দীর্ঘ শাহাদাতের কাফেলায় ওরা যুক্ত হয়েছে। ওরা মরলেও ওরা পরাজিত নয়। ওরা মরলেও ওরা নিঃশেষ নয়। ওরা মরলেও ওরা বীর। ওরা মরলেও ওরা বিপ্লবের সন্তান। ওরা মরলেও ওরা ইনসাফের সৈনিক। ওরা মরলেও ওরা ফ্যাসিবাদের অন্তিম কম্পন। ওরা এই জাতির ভালোবাসায় স্মরণে সিক্ত হয়ে থাকবে সবসময়। জুলাইয়ের সন্তানেরা মরে না। ওরা জীবন দিয়ে ইতিহাস লেখে। ওরা লড়াইয়ের অনির্বান মশাল রেখে যায় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। ওদের জীবন ওদের লড়াইয়ের সিলিসিলা কখনো হারিয়ে যায় না। সেই সিলসিলা থেকে জন্ম নেয় নতুন শপথ, নতুন কিয়াম, নতুন ইনকিলাব। কারিনা কায়সার, আমাদের বোন। আমাদের কমরেড। আমাদের স্মরণে, আমাদের সংকল্পে, আমাদের লড়াইয়ে কারিনা আমাদের সাথে থাকবে, আজ কাল শত শতাব্দী ধরে৷ বাংলাদেশ নামটা যতোদিন থাকবে ততোদিন। জুলাই জিন্দা থাকবে যতোদিন ততোদিন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।by pinaki

Comments

Popular posts from this blog

সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা

নামহীন আট শহীদের কবরে ফিরল পরিচয়

সাভারে বিজয় মিছিলে গুলিতে শহীদ হন ৩০ ছাত্র-জনতা