কবর দেখে কাঁদেন মা, বেঁচে থেকেও মরার মতো বাবা

 


পাঁচ আগস্ট। লাল-সবুজের বাংলাদেশে উদিত হয় নতুন সূর্য। পতন হয় ফ্যাসিবাদের। শেখ হাসিনার সকারের পতন হতেই এদিন বিকেলে ঢাকার উত্তরায় আনন্দ মিছিলে যান ওমর বিন নুরুল আফসার। কিন্তু ছাত্র-জনতার ভিড়ে গুলি চালায় পুলিশ। মুহূর্তেই প্রাণ হারান ২৩ বছর বয়সী ওমর।

ছেলের শোকে এরই মধ্যে পাগলপ্রায় মা-বাবা। প্রায় প্রতিদিনই ওমরের কবরের সামনে গিয়ে চোখের পানি ফেলেন তিনি। এছাড়া দীর্ঘ বছর বিদেশের মাটিতে থাকায় বেঁচে থেকেও যেন মরার মতো রয়েছেন বাবা।

ওমরের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদ্বন্দী গ্রামে। লেখাপড়া করতেন বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ট্রেনিং সেন্টারে। তিন বছরের কোর্সের ১৩টির ১২টি মডিউলই শেষ করেছিলেন তিনি। চাকরি পেয়েছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সেও। এর মধ্যেই সব লণ্ডভণ্ড করে দিলো ঘাতক পুলিশ।

ওমরের মা রুবি আকতার বলেন, ছেলের লাশ দেখার পর যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। তবে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে সব মেনে নিয়েছি। আমার স্বামী নুরুল আফসার ৪২ বছর ধরে প্রবাসে থাকেন। এক মেয়ে ও পাঁচ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। আর ওমর ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। ছয় মাস পর ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে বের হওয়ার কথা ছিল তার।

তিনি বলেন, আমার ছেলেকে যারা এভাবে গুলি করে মারলো, বর্তমান সরকারের কাছে আমি তাদের বিচার চাই। দুনিয়াতে বিচার না পেলে হাশরের মাঠে আল্লাহর কাছে চাইবো। এভাবে বলতে বলতে কান্নায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

শহিদ হওয়ার পরদিন প্রবাস থেকে ছুটে আসেন ওমরের বাবা মো. নুরুল আফসার। তিনি বলেন, এই সন্তানকে মানুষ করার জন্য বিগত চার দশক ধরে প্রবাসে রয়েছি। ছেলে চাকরিতে যোগ দেয়ার পর একবারে দেশে চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল।

Comments

Popular posts from this blog

সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা

নামহীন আট শহীদের কবরে ফিরল পরিচয়

সাভারে বিজয় মিছিলে গুলিতে শহীদ হন ৩০ ছাত্র-জনতা