সাত মাস ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন হামিম

 


লেখাপড়া করার জন্য গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আসেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার হাবিব উল্লাহ হামিম (২০)। তবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হয়ে নিজের জীবনটিই বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন তিনি।

এমনকি যে কোনো সময়ে জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার মতো আশঙ্কাও রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হন হাবিব। তখন থেকেই দীর্ঘ সাত মাস ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন তিনি।

সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের মনোহর চৌধুরীপাড়ার মৃত মোহাম্মদ নুরুচ্ছফার ছেলে হাবিব। মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্বের অধীন চকবাজার শাখার বায়তুলমাল সম্পাদক ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামিমের শরীরে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করা হলেও এখনো পর্যন্ত তিনি আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে হামিম ঢাকার সমন্বিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) ট্রমা ম্যানেজমেন্ট সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে প্রতিদিনই আন্দোলন অংশ নিতেন হামিম। সর্বশেষ ৫ আগস্ট দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। এরপর সাধারণ ছাত্র ও শিবির কর্মীরা হামিমকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে কাকরাইলের একটি হাসপাতালে এবং পরে সিএমএইচে ভর্তি করানো হয়।

হামিমের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের একাধিক স্থানে গুলি লাগে তার। এর মধ্যে একটি বুলেট পাঁজরের দিক দিয়ে ঢুকে পায়ুপথ ছিঁড়ে যায়। ফেটে যায় মূত্রথলি। কোমরের সঙ্গে পায়ের জয়েন্টের হাড়ও খুলে যায়, ছিঁড়ে যায় ডান পায়ের লিগামেন্ট। ফলে হাঁটার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন বার বার। তার শরীরে এখনো একটি বুলেট। তার শরীরে ইতিমধ্যে চারবার অস্ত্রোপচার করা হয়। আর দুবার অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে বলেও অভিমত চিকিৎসকদের।

হামিম বলেন, দেশকে স্বৈরাচার-ফ্যাসিস্টমুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪-এর জুলাই আন্দোলনে সম্মুখসারিতে অংশগ্রহণ করি। আলহামদুলিল্লাহ প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে। আমার জীবনপ্রদীপ নিভে গেলেও দেশকে হায়েনামুক্ত করতে পারায়, কোনো আক্ষেপ নেই। আমার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও দেশের কাজে মনোনিবেশ করতে পারি।

Comments

Popular posts from this blog

সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা

নামহীন আট শহীদের কবরে ফিরল পরিচয়

সাভারে বিজয় মিছিলে গুলিতে শহীদ হন ৩০ ছাত্র-জনতা